শেরপুরের গারো পাহাড়ে রাতের আঁধারে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন ও বৃক্ষনিধন চলছে। একটি প্রভাবশালী বনদস্যু চক্রের তাণ্ডবে ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। সরকারও হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব।
দিনে নীরবতা বজায় রেখে রাত হলেই শুরু হয় এই পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড। নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার গারো পাহাড়জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন এবং নির্বিচারে গাছ কাটা। এতে পাহাড়ি ছড়া ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হাজার হাজার একর কৃষিজমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে এবং ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও খনিজ সম্পদ উন্নয়ন বিধিমালা উপেক্ষা করে সংঘবদ্ধ চক্র প্রভাব খাটিয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে অভিযান চললেও তা অপর্যাপ্ত। অভিযানের কয়েকদিন পরই আবার আগের মতো শুরু হয় লুটপাট। মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় অপরাধ থামছে না। বন উজাড়ের কারণে খাদ্যসংকটে বন্যহাতি লোকালয়ে নেমে আসছে এবং মানুষ ও হাতির সংঘাত বাড়ছে।
রফিক মজিদ, সভাপতি, গ্রীণ ভয়েস, শেরপুর বলেন, গারো পাহাড় শুধু একটি বনাঞ্চল নয়, এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের আধার। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে একটি বনদস্যু চক্র রাতেও পাহাড়ের সম্পদ লুট করছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য রোধ করতে গিয়ে তাদের সদস্যরাও হামলার শিকার হচ্ছেন। গত ৩ জুন গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন ও এক বনকর্মীর ওপর হামলা হয়। এরপরও নিয়মিত অভিযান চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকা ও জনবল সংকটের কারণে সার্বক্ষণিক নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না।
সালেহীন, বিট কর্মকর্তা, গজনী, উত্তর ময়মনসিংহ বন বিভাগ বলেন, দরবেশতলা এলাকায় এখনো একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। বন বিভাগের অভিযানে দুটি বড় সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে, বাকি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তানভীর আহমেদ, সহকারী বন সংরক্ষক, রাংটিয়া রেঞ্জ এ তথ্য জানান।
পরিবেশবিদ মুগনিউর রহমান মনি বলেন, কার্যকর নজরদারির অভাবে চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, বনখেকো ও বালুখেকোদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয়দের দাবি, বিচ্ছিন্ন অভিযানের পরিবর্তে বনদস্যু ও অবৈধ খনিজ উত্তোলনকারী চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
আরও পড়ুন:








