বুধবার

১৫ জুলাই, ২০২৬ ৩১ আষাঢ়, ১৪৩৩

বাঁশখালীতে খাল খনন অব্যাহত থাকবে, দ্রুত বাকি কাজ শেষের নির্দেশ: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

শিব্বির আহমদ রানা,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৫৭

শেয়ার

বাঁশখালীতে খাল খনন অব্যাহত থাকবে, দ্রুত বাকি কাজ শেষের নির্দেশ: ত্রাণমন্ত্রী দুলু
ছবি: সংগৃহীত

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, বাঁশখালীতে চলমান খাল খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং অবশিষ্ট অংশের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের প্রধান ৫০টি খাল খনন উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাঁশখালীর ঐতিহ্যবাহী জলকদর খালকে সংস্কার করে একটি ‘মডেল খাল’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পালোয়ানপাড়া এলাকায় চলমান খাল খনন কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী খাল খননের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাল পুনঃখননের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'বাঁশখালীতে খাল কাটা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট অংশের কাজও দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়।'

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি এখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, কৃষি পুনরুদ্ধার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

ত্রাণমন্ত্রী জানান, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে উঁচু স্থানে যৌথ বীজতলা তৈরি, প্রয়োজনীয় বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে আগামী মৌসুমে খাদ্য উৎপাদনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন খালগুলো যথাযথভাবে সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। খাল সংস্কারের মাধ্যমে এ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বন্যার পর পানিবাহিত রোগের ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ মোকাবিলার চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রেখেছে। স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

এর আগে খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন ত্রাণমন্ত্রী। এ সময় তিনি দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল হক মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর ফারুক, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মাহমুদুল হাসান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার লোকমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



আরও পড়ুন:

banner close
banner close