শিশু শিক্ষার্থীকে চড় মারার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।
শিশুর নানা আব্দুর রশীদ বাদী হয়ে মঙ্গলবার এ মামলা করেন।
আদালত পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আদেশ দিয়েছে। অপরদিকে প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় শিশু শিক্ষার্থীর মা মিতালী খাতুন জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
এ মামলার মূল অভিযুক্তত ফার্মপাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে শামসুউর রহমান শুভকে পুলিশ শেষখবর পাওয়া পর্যন্ত ধরতে পারেনি। আদালতে আত্মসর্মণেরও তেমন তথ্য মেলেনি।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ৮ জুলাই অ্যাসেম্বুলির সময় বিশৃঙ্খলার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম এক শিশু শিক্ষার্থীকে চড় থাপ্পড় মারেন। বিষয়টি শিশুর পিতা মাতা জানার পর শিশু সন্তানকে কেনো মারা হয়েছে তা জানতে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রাধান শিক্ষকের সামনে যান। কথোপকথনের এক পর্যয়ে শিশুর পিতা শামস উর রহমান শুভ প্রধান শিক্ষককে ছড় থাপ্পড় মারেন। দৃশ্য সিসিক্যামেরায় ধরা পড়ে। ধারণকৃত অংশ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে ওই ফুটেজসহ প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য দেশ জুড়ে চাওর হয়। শিশুর মারধরের বর্ণনা যখন দেন কাঁদতে কাঁদতে তা শুনে দেখেও প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে পড়তে হয় বিরুপ সমালোচনার মুখে। এক পর্যয়ে ঘুটনার রাতেও প্রধান শিক্ষক মামলা করেন। শিশু শিক্ষার্থীর পিতা ও মাতাকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ শিক্ষার্থীর মা মিতালীক গ্রেফতার করে। পরদিন আদালতে সোপর্দ করা হয়। মঙ্গলবার তিনি জামিনে মুক্ত হন। অপরদিকে শিশুর নানা আব্দুর রশীদ বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষককে অভিযুক্ত করে আদালতে আরজি পেশ করেন। চুয়াডাঙ্গা
বিজ্ঞ আমলী আদালতে পেশকৃত আরজিসূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুর রশিদ। তার নাতনি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর পক্ষে অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলায় ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৮ জুলাই সকাল প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে বিদ্যালয়ের সমাবেশ চলাকালে প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ বোধ করায় শিক্ষার্থী দুই হাতে কান চেপে দাঁড়িয়ে ছিলো। এ সময় প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে লাইনের বাইরে টেনে এনে দুই গালে চড় মারেন এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে তাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুটির চিৎকার শুনে তার বাবা-মা ও স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় শিশু আইন, ২০১৩-এর ৭০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৫০৬(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় মামলা নিতে না চাওয়ায় তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। এছাড়া শিক্ষার্থীর বাবা সামস উর রহমান শুভকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গুম করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে প্রধান শিক্ষকের দায়েরকৃত মামলায় শারীরিকভাবে আঘাত, শ্লীলতাহানীসহ সরকারি কাজে বাধাধানের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








