রাজবাড়ীর পাংশায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জিল্লু মণ্ডল (৫৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার চরঝিকরি মকবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসা ময়দানে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত বৃদ্ধ জিল্লু মণ্ডল উপজেলার চরঝিকরি গ্রামের জোনায়েত মণ্ডলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে ধর্ষণ চেষ্টার শিকার ভুক্তভোগী ছাত্রী চরঝিকরি মকবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে চরঝিকরি দক্ষিণপাড়ায় লোকমান হোসেনের বাড়ির পাশের একটি আখক্ষেতের কাছে পৌঁছালে অভিযুক্ত তার পথরোধ করে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক আখক্ষেতের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে ওই ছাত্রী অভিযুক্তের হাতে কামড় দিয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে চরঝিকরি মকবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসায় একত্রিত হয় স্থানীয়রা। জিল্লু মণ্ডল সেখানে উপস্থিত হলে স্থানীয় উৎসুক জনতা তাকে মারপিট করে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পাংশা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে তাকে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শী লোকমান হোসেন বলেন, শিশুটির চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলের দিকে গেলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের নিয়ে তার বাড়িতে গেলে প্রথমে সে বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করেন।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমি স্কুলে পরিক্ষার উদ্দেশ্যে জাচ্ছিলাম। এ সময় মাঠের মধ্যে একজন বয়স্ক লোক আমাকে এক হাজার টাকা দিতে চায়। আমি টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছিলাম। সেই লোকটা পিছন থেকে আমার মুখ চেপে ধরে খারাপ কাজ করার চেষ্টা করে। তখন আমি তার হাতে কামড় দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই এবং চিৎকার করি। স্থানীয়রা এগিয়ে আসার আগেই সে পালিয়ে যায়।
চরঝিকরি মকবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসার সুপার কাজী মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মেয়েটির বাড়ি মাদ্রাসা থেকে অনেক দূরে। মাঠের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। মেয়েটি জানতো না গতকাল পরিক্ষা ছিলো। পরিক্ষার জন্য মাদ্রাসায় আসছিল। এ সময় ঘটনাটি ঘটে আজ স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসায় বসতে চায়। এখানে সবাই উপস্থিত হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত জিল্লু মণ্ডলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন বলে জানান, পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম। তিনি বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক। পরে ভুক্তভোগীর বাবার দায়ের করা মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন:








