বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)। বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, পশু চিকিৎসা, ত্রাণ ও রান্না করা খাবার বিতরণের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় খাদ্য ও নগদ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে বাহিনীটি।
সোমবার বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত কয়েকটি গ্রামে সদর দপ্তর বিজিবির নির্দেশনায় এই বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।
ক্যাম্পেইনে প্রায় ৪০০টি পরিবারের সদস্যদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। এছাড়া ২০০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী এবং ২০০টি পরিবারের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে পশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল দিনব্যাপী কাজ করে প্রায় ১৫০টি গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করে।
এবারের কার্যক্রমের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার। দুর্গম ও জলাবদ্ধ এলাকায় আটকে থাকা অসহায় মানুষের কাছে ড্রোনের মাধ্যমে শুকনা খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ পৌঁছে দেয়া হয়, যা দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকরভাবে সহায়তা পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমগ্র কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ। তিনি বিজিবির এই মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম বন্যার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং মানবিক মূল্যবোধকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ৫৫ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক ক্যাপ্টেন সাফায়েত হোসেন, ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, চলমান ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গত মানুষের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন:








