চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠান এক্সাবাইট লিমিটেড ও ইন্টারনেট সেবাদাতা (আইএসপি) প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলার আগে ব্যবসা পরিচালনার জন্য এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নগরের চকবাজার থানার ১২১ মনুমিয়াজী লেইন, চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ডিডিএনের ম্যানেজার (অ্যাকাউন্টস) মো. শামশুদ্দোহা মিনহাজ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুন, ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, মো. শহিদুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল কায়েছকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ জুলাই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুনের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিদেশি ও দেশীয় দুটি নম্বর থেকে ফোন আসে। কলকারী নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে চট্টগ্রামে ব্যবসা পরিচালনার জন্য এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানের দাবি, চাঁদার দাবি প্রত্যাখ্যান করার দুই দিন পর ৩০ থেকে ৪০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি রামদা, কিরিচ, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অফিসে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় কাচের দরজা, আসবাবপত্র, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভাঙচুরের শিকার সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে এইচপির ছয়টি, ডেলের তিনটি ও এসারের একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, ডেলের তিনটি ও থিংকপ্যাডের একটি ল্যাপটপ, একটি ইপসন প্রিন্টার, স্টেলার ব্র্যান্ডের দুটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন এবং অফিসের বিভিন্ন কাচের স্থাপনা।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা অফিসের ড্রয়ার থেকে ৪৭ হাজার টাকা নগদ, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের ব্যাগে থাকা কর্মচারীদের বেতন বাবদ ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজেও মুখোশধারী হামলাকারীদের অস্ত্র হাতে অফিসে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালানোর দৃশ্য দেখা গেছে।
ডিডিএনের পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, হঠাৎ ১৫ থেকে ২০ জন অস্ত্রধারী অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। কয়েক দিন আগে ‘ডেভিড ইমন’ নামে একজন ফোন করে চাঁদা দাবি করেছিলেন। তাদের ধারণা, চাঁদা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুন বলেন, দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, এখন থেকে তাদের ব্যবসা তারাই পরিচালনা করবে। চাঁদা না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ডেভিড ইমন বিদেশে অবস্থানরত পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চকবাজার থানার ওসি নুর হোসেন মামুন বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:






.png)

