৯দিন পর বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। জেলা উপজেলা বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের পানিও নেমে গেছে। এদিকে পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। বাড়িতে ফিরেই বাড়ি ঘর পরিস্কার করতে শুরু করেছে তারা। ডুবে যাওয়া প্রতিষ্ঠান, বাসা বাড়ি, অফিস পরিস্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন সবাই।
সরেজমিনে দেখাগেছে, প্রতিটি বাড়ির ভিতরে বন্যার ময়লাযুক্ত পানি, কাদামাটি পরিস্কারে ব্যস্ত সবাই। কেউ কেউ দুর থেকে পানি এনে ঘরে ঢেলে পরিস্কার করছে আবার অনেকে ডুবে যাওয়া প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কাপড়সহ আসবাব পত্র সব ধুয়ার জন্য স্থানীয় পুকুরে ভীড় করছেন। তাদের মতে এবারের বন্যা প্রতিবারের চেয়ে ভিন্ন এবং অধিকতর কষ্টের। কয়েকদফা পানি বেড়েছে এবং কমেছে যার কারণে কয়েকবার বাড়ি পরিস্কার করে আবার আশ্রয় কেন্দ্রে ফিরতে হয়েছে।
এবিষয়ে আর্মি পাড়ার বাসিন্দা নুর জাহান বলেন, সকালে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে এসেছি। আমাদের কষ্টের কোন শেষ নাই। এতদিন আশ্রয় কেন্দ্রে কষ্টে থেকেছি এখন বাড়িতে এসেও কষ্ট করছি।
শেরে বাংলা নগরের বাসিন্দা মো: শাহজাহান বলেন, পরিবারের সবাই ঘর ধোয়ামুছার কাজে ব্যস্ত। মেয়েদের চেয়ে আমাদের আরো বেশি কষ্ট। ভারী জিনিস নিয়ে পুকুরে গিয়ে ধুয়ে আনতে হয়। পানি উঠলেও কষ্ট, নামলেও কষ্ট, আশ্রয় কেন্দ্রেও কষ্ট। কষ্টের কোন শেষ নাই।
বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, আমি চেষ্টা করেছি এবারের বন্যায় কবলিত এলাকার প্রতিটি পরিবার যেন ত্রাণ পায়। তাই নিজেই ঝুঁকি নিয়েই ত্রাণ বিতরন করেছি। চেষ্টা করেছি কেউ যেন খাদ্যের জন্য কষ্ট না পায়।
এদিকে বন্যায় প্রধান সড়কের পানি কমতে শুরু করায় পুরোপুরি চালু না হলেও কিছু কিছু যানবাহন চলাচল শুরু করেছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী অংসুই প্রু মারমা বলেন, পানি কমলেই সড়ক পরিবহন স্বাভাবিক হবে। এ বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটের তেমন ক্ষতি হয়নি।
আরও পড়ুন:








