চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও সোমবার (১৩ জুলাই) পর্যন্ত অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি।
পানি কমলেও কাটেনি বাঁশখালীর মানুষের দুর্ভোগ। উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ এখনও পানিবন্দি রয়েছে। কোথাও ঘরের উঠোনে, কোথাও বসতঘরে, আবার কোথাও সড়কের ওপর এখনো জমে আছে পানি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ধীরে ধীরে ঘরে ফিরলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছে না অনেকেই।
মাত্র কয়েকদিন আগেও পাহাড় আর সমুদ্রঘেরা এই জনপদের জীবন ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় সব এলাকাই বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় ছনুয়া, শেখেরখীল, চাম্বল, শীলকূপ, সরল, কাথরিয়া, বাহারছড়া, খানাখানাবাদ ও পুকুরিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। অনেক এলাকায় এখনও পানি পুরোপুরি নামেনি।
কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়িঘর। স্থানীয়দের হিসেবে প্রায় আট থেকে দশ হাজার বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসংখ্য কাঁচা ঘর ধসে পড়েছে। পানির নিচে চলে গেছে কৃষিজমি, মাছের ঘের, পুকুর ও পোলট্রি খামার। ফলে একদিকে মাথা গোঁজার আশ্রয়, অন্যদিকে জীবিকার উৎস, দুই দিক থেকেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ।
বৃষ্টি কমলেও নতুন করে হওয়া বর্ষণে কিছু নিম্নাঞ্চল আবারও প্লাবিত হয়েছে। অনেক জায়গায় পানি আটকে থাকায় দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু মাছের ঘেরের গেট বন্ধ থাকায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। পাশাপাশি খাল, ছড়া ও কালভার্ট দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনও ব্যাহত হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন ত্রাণ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, তা প্রয়োজনের তুলনায় এখনও অপ্রতুল। দ্রুত পুনর্বাসন, কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা প্রয়োজন।
মাসুম আব্দুল্লাহ জিএস কবি জসিম উদ্দিন হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আকতার হোসেন সাবেক চেয়ারম্যান শীলকূপ ইউনিয়ন জানিয়েছেন স্থানীয় পরিস্থিতির কথা।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য অনুসারে বাঁশখালীর ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ বন্যা। তাদের মতে ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগেও এত বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা যায়নি। পানি কমতে শুরু করলেও ভেঙে পড়া ঘর, নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসল আর হারিয়ে যাওয়া জীবিকা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে হাজারো মানুষের। তাই দ্রুত পুনর্বাসন, টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কার্যকর সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন:








