রবিবার

১২ জুলাই, ২০২৬ ২৮ আষাঢ়, ১৪৩৩

জীবননগরে জমি দখলকারী সেই মশিউরের বিরুদ্ধে এবার ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৬ ২১:৫৮

শেয়ার

জীবননগরে জমি দখলকারী সেই মশিউরের বিরুদ্ধে এবার ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থানায় সেই মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এর একটিতে ডিজিএফআইয়ের ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৪ বিঘা কৃষিজমি দখলের অভিযোগ করা হয়েছে। অপরটিতে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুরন্দরপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আলম মণ্ডল জীবননগর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলা চলমান থাকার সুযোগে একই গ্রামের মশিউর রহমান, তার ছেলে নাহিদ হোসেন এবং লিয়াকত হোসেন পরস্পর যোগসাজশে তাকে ডিজিএফআইয়ের ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৬ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিল সকালে তার ১৪ বিঘা আবাদি জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয় এবং এরপর থেকে জমিটি তাদের দখলেই রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, জীবননগর উপজেলার ধোপাখালী পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা নিশান হোসেন থানায় দেয়া অপর একটি অভিযোগে জানান, পুরন্দরপুর দক্ষিণপাড়ার মশিউর রহমান সেনাবাহিনীতে মেস ওয়েটার পদে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০২২ সালে তার কাছ থেকে নগদ ৪ লাখ টাকা নেন। পরে একটি নিয়োগপত্র দিলেও যাচাই-বাছাই করে তিনি জানতে পারেন সেটি ভুয়া।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একইভাবে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও চাকরির নামে টাকা নিয়েছেন এই মশিউর রহমান।

বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করলে মশিউল ও তাদের লোকজনের হুমকির কারণে তিনি আদালতে নিয়মিত হাজির হতে পারেননি এবং আগের মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। এখন তিনি নতুন করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৬ সালের দিকে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন জীবননগর উপজেলার পুরন্দপুর গ্রামের মশিউর রহমান। এর পর থেকে তিনি এলাকায় কখনো ডিজিএফআইয়ের সোর্স, কখনো প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে প্রতারণা শুরু করে। সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে ৮ থেকে ১০ জনের কাছ হাতিয়ে নেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকনের সঙ্গে মিলে শুরু করেন চাঁদাবাজি।

এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, "দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ দুটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।"



banner close
banner close