হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আলাপুর-চরহামুয়া এলাকায় খোয়াই নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থানীয় গ্রামবাসী লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যত কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। বরং বালুখেকোদের দ্বারা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে প্রতিবাদকারীদের । অভিযোগ দায়েরের ৪ মাসের মাথায় নদীর তীররক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। তলিয়ে যায় অন্তত ২০টি গ্রাম। এরপরই (আজ) উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে।
জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্থানীয় গ্রামবাসীর পক্ষে একটি লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, খোয়াই নদীতে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীররক্ষা বাঁধ, স্থানীয় সড়ক এবং নদীসংলগ্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো সময় বড় ধরনের নদীভাঙন ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
শুধু লিখিত অভিযোগেই সীমাবদ্ধ থাকেননি স্থানীয়রা। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে লস্কর ইউনিয়নের শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একাধিকবার প্রতিবাদ সভারও আয়োজন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে হয়রানি করা হয়। ফলে আতঙ্ক ও হয়রানির ভয়ে পরবর্তীতে অনেকেই প্রতিবাদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
এদিকে অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সম্প্রতি টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল চাপে খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ ভয়াবহভাবে ভেঙে যায়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয় এবং বহু পরিবার ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে।
ভাঙনের ঘটনা ব্যাপক আলোচনায় আসার পর শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে হয়তো নদীর ভয়াবহ ভাঙন এবং মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শামিমুর রহমান বলেন, "অভিযোগের পর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করলে এই বিপর্যয় হতো না।"
লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই নদীর তীররক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। আমরা বিভিন্ন এর প্রতিবাদ জানালেও কোন প্রতিকার পাইনি। প্রবল স্রোতের চাপ সহ্য করতে না পেরে বাঁধটি ভেঙে গেছে। অবিলম্বে খোয়াই নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে।”
একই বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ফজলে রাব্বানী চৌধুরী বলেন, আমি সম্প্রতি শায়েস্তাগঞ্জে যোগদান করেছি। আমি আসার পর কেউ অভিযোগ জানায়নি। গত ১ মাস যাবত বালু উত্তোলন বন্ধ ছিলো, এরআগে ৪ মাস মেশিন চালানো হয়েছে। আজকে ২টি মেশিন জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে মামলা দায়েরের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:








