হবিগঞ্জে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে শুরু করেছে। জেলার খোয়াই, কুশিয়ারা ও সুতাং নদীর পানি কমতে শুরু করলেও এখনো কাটেনি বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ। বরং পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে জেলার কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
শনিবার সকালে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়েদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খোয়াই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে বাল্লা পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও শায়েস্তাগঞ্জ ও মাছুলিয়া পয়েন্টে তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা, কালনী-কুশিয়ারা ও সুতাং নদীর পানিও ক্রমেই কমছে।
তবে নদীর পানি হ্রাস পেলেও বন্যার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পৈল ইউনিয়নের শিয়ালদাড়িয়া, পাচপাড়িয়া, হামিদনগর, আউশপাড়াসহ কয়েকটি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। এতে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক টিউবওয়েল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। একই সঙ্গে খাদ্য সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি কিছুটা কমলেও ঘরবাড়ি, রাস্তা ও কৃষিজমি এখনো পানির নিচে রয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছে। দ্রুত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:








