শনিবার

১১ জুলাই, ২০২৬ ২৭ আষাঢ়, ১৪৩৩

পাহাড়ি ঢলে সেতু ধস, রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬ ১৪:০৭

শেয়ার

পাহাড়ি ঢলে সেতু ধস, রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ছবি সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে পড়েছে। এতে দুই জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একটি রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে রাঙ্গামাটির রাজস্থলীসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ি ছড়া ও নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের ব্রিজঘাট সেতুর একটি বড় অংশ ধসে যায়। এর ফলে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। জরুরি রোগী পরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে, পানির তীব্র চাপের মুখে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস দুধপুকুরিয়া এলাকার রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এতে মুহূর্তেই আশপাশের নিম্নাঞ্চল এবং রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। বহু বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছেন। ফসলি জমি ও মাছের ঘেরেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ি ঢলের কারণে একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক কোনো উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

সেতু ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে স্থানীয় পথচারী মো. আলী আকবর বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় দুই জেলার মানুষের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

রাজস্থলী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, রাতভর বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পর হঠাৎ বাঁধটি ভেঙে যায়। সকালে চারদিকে পানি দেখতে পান। ঘরবাড়ি ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

বান্দরবান সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, তিনিও পরিবারসহ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং পাহাড়ি ঢল বা তীব্র স্রোতের মধ্যে অপ্রয়োজনে চলাচল না করতে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও জরুরি পুনর্বাসন কার্যক্রমের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় নতুন করে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



banner close
banner close