চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই পারিবারিক কবরস্থানের দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, মানুষের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে রাতের আঁধারে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের পূর্ব গাটিয়াডেঙ্গা গ্রামের মোসলেম মুন্সি বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্য মিজানুল ইসলাম।
তার দাবি, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মানুষ যখন নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই দুর্বৃত্তরা কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেয়।
মিজানুল ইসলামের অভিযোগ, নলুয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ফখরুদ্দিন মিন্টুর অনুসারী একটি গ্রুপ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও অভিযোগ করে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাদের ভাষ্য, ফখরুদ্দিন মিন্টু বিদেশে থাকলেও তাঁর বড় ভাই কামাল উদ্দিন এবং ভাগিনা মোরশেদ আলম এলাকায় ওই গ্রুপের কার্যক্রম পরিচালনা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর আরও দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও মোরশেদ আলম এলাকায় প্রভাব বজায় রেখেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিজানুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় অতীতেও তাঁকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। তাঁর ওপর হামলা, বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর ও চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৭ জুন সাতকানিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট বাবার কবর জিয়ারত করতে গেলে তাঁর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাড়ির চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং মে মাসে অস্ত্র তাক করে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে থানায় লিখিত আবেদন করেছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, কবরস্থানের দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ পুলিশ পেয়েছে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
আরও পড়ুন:








