শনিবার

১১ জুলাই, ২০২৬ ২৭ আষাঢ়, ১৪৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা: ছিনতাই, নাকি পূর্বপরিকল্পিত খুন

মোছাব্বির হাসান সজীব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৯:৩৩

শেয়ার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা: ছিনতাই, নাকি পূর্বপরিকল্পিত খুন
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে জিহাদ নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে অথবা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি ছিনতাইজনিত নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্র্যাক অফিসের পূর্ব পাশে পুলের টুক সংযোগস্থল এলাকায়, খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার আওতাধীন স্থানে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত জিহাদ সরাইল সদর ইউনিয়নের কুট্টাপাড়া গ্রামের আজগর আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় কুট্টাপাড়া মোড়ের আরজু গ্যারেজে 'মোটর মেকানিক' হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ, হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে জিহাদের বাবা আজগর আলী কুট্টাপাড়ার নাইল্লা ভাঙা খালে মাছ ধরতে যান। বিকেল চারটার দিকে জিহাদ বাবার কাছ থেকে মাছ নিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেন। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলে সন্ধ্যার পর বাবাকে বাড়ি নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে আবার বের হন। কিন্তু রাত গভীর হলেও তিনি আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে ব্র্যাক অফিসের পূর্ব পাশে পুলের টুক সংযোগস্থল এলাকায় রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় জিহাদকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। দুর্বৃত্তরা তার বাম হাত ও বাম উরুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনন্ত কুমার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের বাবা আজগর আলী বলেন, আমার ছেলে মাগরিবের পর আমাকে আনতে বের হয়েছিল। অনেক রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পাই। তার মোবাইল ফোনটিও ছিল না। আমার বিশ্বাস, ছিনতাইকারী অথবা পরিকল্পিতভাবে কেউ আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।

এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বাংলা এডিশনকে বলেন, 'ছুরিকাঘাতে এক কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। এটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে! তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিভিন্ন আলামতও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।'

তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



banner close
banner close