টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের অন্তত আট জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি এবং উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস, নদীর পানি বৃদ্ধি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এ পর্যন্ত পৃথক ঘটনায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও কিছু এলাকায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ফেনী, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটিতে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামের সাত উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাসদস্যরা উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা ২২১টি পরিবারকে ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্লাবিত হওয়ায় তিন দিন ধরে কক্সবাজারের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি সড়কও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢলে ভেসে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজারের চকরিয়ায় নৌকাডুবির ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যু এবং দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারে গত সাত দিনে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে ২৫ জনের প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে এখনো ৩০টি গ্রামের দেড় হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। জেলার ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে তিন হাজার ৫২৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে ফিরেছেন।
বান্দরবানের সাত উপজেলার নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে রয়েছে। জেলার অন্তত ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি। পাহাড়ধস ও সড়ক প্লাবিত হওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার ও সড়ক সচল করার কাজ করছে।
সিলেট অঞ্চলেও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের অন্তত ৬০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মনু ও খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভারতের মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিন সিলেটে বন্যার ঝুঁকি বহাল থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও কয়েক দিন মাঝারি থেকে ভারি এবং কোথাও কোথাও অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:








