রবিবার

১২ জুলাই, ২০২৬ ২৭ আষাঢ়, ১৪৩৩

সিলেটে মাজারের দানের টাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

আক্তার সুমন, বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬ ২৩:২৬

শেয়ার

সিলেটে মাজারের দানের টাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
ছবি সংগৃহীত

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানের টাকা আত্মসাৎ? মাজারে দান বিতর্ক। দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিয়মিত আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের দাবি ভক্তদের।

প্রতিদিন হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে এই ঐতিহাসিক স্থান। মানত, দোয়া ও ধর্মীয় বিশ্বাসের টানে দানের ডেগে জমা হয় নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। কিন্তু সেই দানের অর্থ কোথায় যায়, কীভাবে ব্যয় হয় এবং এর হিসাব কতটা স্বচ্ছ—এ নিয়ে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নানা প্রশ্ন।

দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় এই স্থানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ দান করেন ভক্তরা। সম্প্রতি দানের ডেগে তালা লাগানো, পরে জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে তা খুলে অর্থ গণনা এবং পুরো প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১৮ জুন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের দানের ডেগে তালা লাগানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, দানের অর্থ নিরাপদে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় গণনার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে ২২ জুন জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ এবং নতুন স্থাপিত দানবাক্স খুলে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে গণনা করা হয়। এতে প্রায় ১৮ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করে।

তবে অর্থ গণনার পরও ভক্তদের প্রশ্নের শেষ হয়নি। অনেক ভক্তের মতে, মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে দেওয়া দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়া উচিত। তাঁরা নির্দিষ্ট সময় পরপর প্রকাশ্যে অর্থ গণনা, নিয়মিত আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকের মতে, দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে ভক্তদের আস্থা আরও বাড়বে এবং বিতর্কেরও অবসান ঘটবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও একটি দাবি ঘুরে বেড়াচ্ছে যে, দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগের সঙ্গে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের বদলির সম্পর্ক রয়েছে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো সরকারি তথ্য, তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা থেকে দেওয়া প্রতিটি দান মানুষের আস্থার প্রতীক। তাই সেই অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিয়মিত হিসাব প্রকাশ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে ভক্তদের আস্থা আরও দৃঢ় হবে এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্কও দূর হবে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় ভক্ত-অনুসারীরা।



banner close
banner close