টানা ভারী বৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি ইউনিয়নের জয়রামপুর-কুমারীদহ সংযোগ সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধসে পড়েছে। এতে জয়রামপুর ও কুমারীদহ গ্রামের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহারকারী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে এখন বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষনাগার কেন্দ্র জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ৩. ৪০ টা হতে সকাল ৯ টা পযন্ত চুয়াডাঙ্গায় বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল ১৬৭ মিলিমিটার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণের কারণে জয়রামপুর কাঁঠালতলা মসজিদের পেছনের সড়কের নিচের মাটি ধসে যায়। একপর্যায়ে প্রায় ১৫ ফুট অংশ ভেঙে পড়লে সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে এলাকার মানুষের দৈনন্দিন চলাচল, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
কুমারীদহ গ্রামের বাসিন্দা মসলেম আলী (৫৪) বলেন, ‘রাতভর বৃষ্টির কারণে সকালে উঠে দেখি রাস্তার বড় একটি অংশ ভেঙে গেছে। এখন আমাদের অনেক ঘুরে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে।’
স্থানীয় দোকানদার কালু শেখ বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন। রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব পড়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরো বাড়বে।’স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর ইসলাম মিলন বলেন, ‘এটি জয়রামপুর ও কুমারীদহ গ্রামের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। ভারি বৃষ্টির কারণে রাস্তার বড় অংশ ভেঙে গেছে। দ্রুত সংস্কার না করলে মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়বে এবং যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
হাউলি ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন বলেন, ‘সড়ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে এলাকাবাসীর চলাচল স্বাভাবিক করা যায়।’
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এই সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হলেও স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তারা দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি টেকসই অবকাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:








