শুক্রবার

১০ জুলাই, ২০২৬ ২৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতির বিকল্প নেই: আতিকুর রহমান

কে এম জারিদুল ইসলাম, যশোর জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪৮

শেয়ার

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতির বিকল্প নেই: আতিকুর রহমান
ছবি: বাংলা এডিশন

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শোষণ-নিপীড়নমুক্ত সমাজ গঠনে ইসলামী শ্রমনীতির বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ হলেও তারা এখনও ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত।

শুক্রবার যশোর জেলা পরিষদের বিডি হলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন যশোর জেলা আয়োজিত ‘দায়িত্বশীল সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের যশোর জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য আব্দুল মালেক খান।

প্রধান অতিথি বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্দেশ্য শুধু একটি শ্রমিক সংগঠন পরিচালনা নয়; বরং শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখা। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা কম মজুরি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের শিকার হলেও তাদের প্রকৃত কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ খুব কমই নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি, শিল্প, পরিবহন, বন্দর ও রপ্তানিসহ দেশের প্রতিটি উৎপাদনমুখী খাতে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও অধিকাংশ শ্রমিক এখনও ন্যায্য মজুরি ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ পাচ্ছেন না। ইসলামের ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিকতার আদর্শই শ্রমিক সমস্যার টেকসই সমাধান দিতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরি, মর্যাদা ও মানবিক আচরণের যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই প্রকৃত শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি নেতাকর্মীদের সততা, দক্ষতা ও আদর্শিক চেতনায় শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পরিবহন, বন্দর, টার্মিনালসহ সব খাতে চাঁদাবাজি, জুলুম ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সরকারই শ্রমিকদের ভাগ্যোন্নয়নে আন্তরিক উদ্যোগ নিতে পারেনি। কৃষি শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পেছনে কৃষি শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রম থাকলেও তারা আজও যথাযথ মূল্যায়ন পাননি। শোষণমুক্ত সমাজ ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ইসলামের ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণের বার্তা পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, সহনশীলতা ও মানবসেবার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ট্রেডভিত্তিক সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে দক্ষ, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক আক্তারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক মশিউর রহমান, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, সরকারি এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হুসাইন, অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা, দপ্তর সম্পাদক নূর-ই-আলি নূর আল মামুন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন যশোর জেলার সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম হান্নান ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন আব্দুল হাই ছিদ্দিক, রইচ উদ্দিন, নুরুল ইসলাম বাবুল, আলিমুজ্জামান, আব্দুল সালাম, আলমগীর কবির, হাবিবুর রহমান, মাহাবুবুর রহমানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন যশোর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুর রহমান।



banner close
banner close