শনিবার

১১ জুলাই, ২০২৬ ২৭ আষাঢ়, ১৪৩৩

রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজারের বেশি মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩৩

শেয়ার

রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজারের বেশি মানুষ
ছবি সংগৃহীত

রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় টানা ভারী বর্ষণের পর বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। তবে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেকে আটকে পড়া বাকি সব পর্যটককে শুক্রবার সকালে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

রাঙামাটি আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ কমলেও বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকির কারণে জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো ৪ হাজার ৩৯২ জন মানুষ অবস্থান করছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত তদারকি চলছে। প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আশ্রিতদের মধ্যে খাবার বিতরণ করছে।

শুক্রবার দুপুরে নানিয়ারচর উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এমপি। এছাড়া দুবাইপ্রবাসী ব্যবসায়ী মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিনের পরিবারের উদ্যোগে পাঁচ শতাধিক মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

বাঘাইছড়ি পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ১২৯টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দি রয়েছে। তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বাঘাইছড়ি উপজেলার ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৫১৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে নিউ লাল্যঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রেই রয়েছেন ১ হাজার ১০০ জন।

এছাড়া রাঙামাটি পৌরসভার ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪০৯ জন, সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে ৪০ জন, কাউখালী উপজেলার আরটিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬০ জন, কাপ্তাই উপজেলার তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৯৮ জন, বিলাইছড়ি উপজেলার চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২২ জন, বরকল উপজেলার তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১১৮ জন, রাজস্থলী উপজেলার তাইতং পাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জন, নানিয়ারচর উপজেলার ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসায় ৩৩ জন এবং জুরাছড়ি উপজেলার জামুড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ১০৪টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বিলাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, বাঘাইছড়িতে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১৩টি, লংগদুতে ৪টি, কাপ্তাইয়ে ৩টি এবং নানিয়ারচরে ২টি পাহাড়ধসের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য প্রতিদিন তিন বেলা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পানিবন্দি এলাকায় ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।



banner close
banner close