শুক্রবার

১০ জুলাই, ২০২৬ ২৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

নেত্রকোণায় কিশোর হত্যা মামালায় একজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৬ ২০:৫৯

শেয়ার

নেত্রকোণায় কিশোর হত্যা মামালায় একজনের যাবজ্জীবন
ছবি: বাংলা এডিশন

নেত্রকোনায় ধার নেয়া টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালে কিশোর জাকির হোসেনকে হত্যা মামালায় মোঃ জনী নামের আসামিকে দীর্ঘ ১০ বছর পর যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও একই সাথে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ডের আদেশ দিয়েছে নেত্রকোণা জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছাঃ মরিয়ম-মুন-মুন্জুরী এ রায় দেন। এসময় আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামালা সুত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর জাকির হোসেন মদন উপজেলার হোসেনপুর এলাকায় খোকন মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে যান। পরদিন ১৬ অক্টোবর সকালের দিকে খোকন মিয়া জাকিরকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে মদনগামী একটি টেম্পুতে তুলে দেন। কিন্তু বাড়িতে জাকির না পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় ও আত্মীয় স্বজনের বাড়ি খোঁজাখুঁজি করেন।

পরদিন ১৭ই অক্টোবর সকালের দিকে খবর পান যে, নেত্রকোনা জেলা সদরের রাজুর বাজার এলাকায় জৈনিক ইদ্রিসের ব্রয়লার খামারের পেছনে বিলের পানিতে এক কিশোরের মরদেহ ভাসছে।

পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি কিশোর জাকিরের বলে সনাক্ত করেন এবং তার গলায় পুরাতন লাইলনের রশি পেঁচানো দেখতে পান।

পরে ২০১৬ সালে ১৮ অক্টোবর পিতা মো: মঞ্জু মিয়া নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি হত্যা মামালা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে তদন্তের এক পর্যায়ে মোঃ জনীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, জাকির তার কাছ থেকে ধার নেয়া টাকা ফেরত না দেয়ায় ক্ষোভ ও জেদে, রাগে তাকে হত্যা করে মরদেহ পানিতে ফেলে রাখেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে কৌশুলী ছিলেন, পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আবুল হাসেম এবং আসামি পক্ষে কৌশুলী ছিলেন এডভোকেট পূরবী কুনডু।

এ মামালায় রাষ্ট্রপক্ষ পর্যায়ক্রমে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ, জব্দকৃত আলামত ও আসামির স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মো. জনীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।



banner close
banner close