কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গিশ্বর গ্রামের পূর্বপাড়া ভুঁইয়া বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে একটি সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিধবা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলে সীমানা প্রাচীর, গোয়ালঘর এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালার ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন রয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মৃত আবদুল ওহাব জীবিত অবস্থায় নিজের জমির নিরাপত্তার জন্য পুকুরের পূর্ব পাশে একটি পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন। প্রাচীরের ভেতরে একটি গোয়ালঘর এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ছিল। অভিযোগে বলা হয়, প্রতিবেশী নেয়ামত উল্লাহ, আবুল বশর, আবদুল মান্নান, রাফি, মেহেদী হাসান বাবু ও সিফাত দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির ওপর দিয়ে চলাচলের রাস্তা তৈরির চেষ্টা করে আসছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, এ বিরোধ নিয়ে অতীতে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ২০২১ সালে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছিল। আদালত সে সময় আবদুল ওহাবের পক্ষে রায় দেন এবং ভবিষ্যতে বিরোধ সৃষ্টি না করার মুচলেকা দিয়ে কয়েকজন অভিযুক্ত জামিন পান বলে দাবি করেছেন বাদী।
সুফিয়া বেগমের অভিযোগ, গত ৫ জুলাই সকালে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলেন এবং সীমানা চিহ্ন নষ্ট করেন। বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তারা বাড়িতে ঢুকে গোয়ালঘরের টিনের বেড়া ও গাছপালা কেটে ক্ষতিসাধন করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দিলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান বাবু বলেন, এটি দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা। তারা রাস্তার জায়গাসহ জমি কিনেছেন। জমির মালিকপক্ষ দেয়াল তুলে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা নিজেদের দাবি করা রাস্তা পুনরুদ্ধার করেছেন।
অন্যদিকে জমির বিক্রেতা ইমামুল হক বলেন, তিনি ৪৪ শতক জমি বিক্রি করেছেন, তবে সেটি সীমানা প্রাচীর ও কথিত রাস্তার বাইরের অংশ। তার দাবি, অভিযুক্তরা এখন প্রাচীরের ভেতরের অংশ নিজেদের দাবি করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোরশেদ আলম বলেন, সুফিয়া বেগমের দায়ের করা মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন:

.jpg)






