বৃহস্পতিবার

৯ জুলাই, ২০২৬ ২৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

বাঁশখালীতে বন্যার ভয়াবহতা বাড়ছেই, লাখো মানুষ পানিবন্দি

শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৫

শেয়ার

বাঁশখালীতে বন্যার ভয়াবহতা বাড়ছেই, লাখো মানুষ পানিবন্দি
বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকার পানিবন্ধি বসতঘর ও বন্যার চিত্র

টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং সমুদ্রের জোয়ারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে।উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে শত শত কাঁচা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু এলাকার সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) রাত প্রায় ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী আঞ্চলিক প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে উপজেলার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে দুর্গত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে বন্যার পানি ক্রমাগত বাড়ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ শতাধিক মাটির তৈরি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে উপজেলা প্রশাসন জরুরি জনসচেতনতামূলক বার্তা জারি করেছে। নিম্নাঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মসজিদের মাইক ব্যবহার করে সতর্কবার্তা প্রচার, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ছনুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হোসাইন বলেন, 'কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মানুষ চরম দুর্ভোগে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অসংখ্য কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া কিছু অসাধু ব্যক্তি স্লুইসগেটে মাছ ধরার জাল বসিয়ে রাখায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।'

চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, 'টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল সম্পূর্ণ পানির নিচে চলে গেছে। প্রায় ৭০০ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত অবনতি হচ্ছে এবং মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।'

শীলকূপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ নুরী বলেন, 'আমার ইউনিয়নের প্রায় ৬০০ পরিবার পানিবন্দি। পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়েও পানি প্রবেশ করায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে সাতটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।'

বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, 'বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বৈলছড়ি এলাকা থেকে শিশুসহ ১৩ জন এবং ছনুয়া ও শেখেরখীল এলাকা থেকে আরও সাতজনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, 'সরকারি বরাদ্দের ত্রাণসামগ্রী পাওয়া মাত্রই দ্রুত দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ, বন্যাকবলিত এলাকা ও সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।'



banner close
banner close