বিশ্বকাপ মানেই উৎসব, উচ্ছ্বাস আর যেন আবেগ। কিন্তু সেই আবেগ যখন পরিণত হয় সহিংসতায়, ফুটবল সমর্থনের কারণে ঝরে যায় প্রাণ, যখন গভীর রাত পর্যন্ত আতশবাজি আর বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা, তখন প্রশ্ন ওঠে, এটা কি ক্রীড়াপ্রেম নাকি নগ্ন উন্মাদনা?
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমর্থকদের সংঘর্ষে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাত ও হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ।
সবশেষ, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের বিরোধে নিহত হন ব্রাজিল সমর্থক শরিফুল ইসলাম। ফুটবল যেখানে হওয়ার কথা আনন্দের উপলক্ষ, সেখানে এখন রক্তাক্ত হচ্ছে পাড়া-মহল্লা।
শুধু প্রাণহানিই নয়। রাতভর আতশবাজি, উচ্চস্বরে গানবাজনা, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আর বিজয় উদযাপনের নামে বেপরোয়া আচরণে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে দুর্ভোগের কারণ।
এই পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী সহিংসতা, জনদুর্ভোগ এবং তীব্র শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করেছেন তিনি।
একই সঙ্গে, বড়পর্দায় খেলা প্রদর্শনের জন্য নীতিমালা, উদযাপনে আতশবাজি ও লাউডস্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং রাত ১১টার পর উচ্চ শব্দ ও আতশবাজি বন্ধে কার্যকর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেখানে বড় পর্দায় খেলা দেখানো হবে, সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নজরদারি থাকবে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, কেন ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে মানুষ এতটা সহিংস হয়ে ওঠে? সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছে, এর পেছনে রয়েছে জয়-পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে না পারার প্রবণতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলার সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয়, রাজনৈতিক বিভাজন কিংবা সামাজিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা মিশে গেলে সমর্থন অনেক সময় অসহিষ্ণুতায় রূপ নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট, স্থানীয় দ্বন্দ্ব এবং দলীয় আবেগও সংঘাতকে আরও উসকে দেয়।
ফুটবল মানুষের আনন্দের খেলা। কিন্তু সেই উৎসব বা আনন্দ যদি মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হয়, তবে প্রশ্ন ওঠে, সমর্থকরা কি ফুটবলকে ভালোবাসে নাকি অন্ধ সমর্থনকে?
আরও পড়ুন:








