ফরিদপুর সদর উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামে আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নির্মাণকাজে বাধা দিতে গিয়ে বাদী কমেলা বেগমসহ তার পরিবারের সদস্যরা মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা সদর পিটিশন নম্বর ২৭৩ বাই ২০২৬ মামলায় কমেলা বেগম বাদী। মামলায় চানো শেখ, তারা শেখ, সাগর শেখসহ কয়েকজনের নাম আসামীর তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, মল্লিকপুর মৌজার বিএস খতিয়ান ২৮৩-এর দাগ নম্বর ৬৫২ ও ৬৬৪-এর মোট ৪৩ শতাংশ জমির মধ্যে ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বাদীপক্ষের দাবি, এটি তাদের পৈতৃক ওয়ারিশি সম্পত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখলে রয়েছে।
বাদীপক্ষের সদস্য রাশেদুল ইসলামের অভিযোগ, আদালতের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন জমিতে নির্মাণকাজ না করে, এমন নির্দেশ পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিবাদীপক্ষ সেখানে ঘর নির্মাণ শুরু করে। বাধা দিতে গেলে তাদের পরিবারের ওপর হামলা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তার মায়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কথাও জানান রাশেদুল।
রাশেদুল ইসলাম কমেলার বড় ছেলে।
মামলার পর আদালতের নির্দেশে কোতোয়ালী থানা উভয় পক্ষকে ১৪৪ ধারার নোটিশ দেয়। নোটিশে বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আগামী ২৯ জুলাই আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বাদীপক্ষের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ কার্যকর থাকা অবস্থাতেই স্থানীয় বিএনপি নেতা আলমগীরের নির্দেশে জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করা হয়। বাধা দিতে গেলে কমেলা বেগমসহ তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।
কমেলা বেগমের দাবি, নির্মাণকাজের ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাদীপক্ষই অযথা ঝামেলা সৃষ্টি করতে নির্মাণকাজে বাধা দিচ্ছে।
কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য উভয় পক্ষকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিরোধের সমাধান আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার এএসআই রুহুল আমীন বলেন, আদালত যেহেতু ১৪৪ ধারা জারি করেছে, তাই উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
বিরোধপূর্ণ জমি, আদালতের ১৪৪ ধারা আর তার মধ্যেই ঘর নির্মাণের অভিযোগ-সব মিলিয়ে মল্লিকপুরে এখন থমথমে পরিস্থিতি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এই অবস্থায় ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের দাবি এলাকাবাসীর।
আরও পড়ুন:








