বুধবার

৮ জুলাই, ২০২৬ ২৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

১৩ বছর পর আদালতের রায়ে ধর্ষণে জন্ম নেয়া শিশুর পিতৃত্বের স্বীকৃতি, ধর্ষকের যাবজ্জীবন

মোঃ আরিফুল ইসলাম, নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৩

শেয়ার

১৩ বছর পর আদালতের রায়ে ধর্ষণে জন্ম নেয়া শিশুর পিতৃত্বের স্বীকৃতি, ধর্ষকের যাবজ্জীবন
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার স্বল্পদশাল গ্রমের এক বিধবাকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেয়া কন্যাশিশুর পিতৃত্ব ১৩ বছর পর আদালতের রায়ে নিশ্চিত হয়েছে এবং সঙ্গে অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে নেত্রকোণা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক একেএম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১ মার্চ বারহাট্টা উপজেলার স্বল্পদশাল গ্রামের আলমের ছেলে মো. হেলাল একই এলাকার এক বিধবাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর ওই ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়। পরে একটি কন্যাশিশুর জন্ম হয়।

ঘটনার পর ২০১৩ সালের ১০ মার্চ ভুক্তভোগীর বোন শহরবানু বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ মামালার তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করে। আদালতে বিচারক পর্যায়েক্রমে আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে, মামালার অন্যান্য আলামত, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত নিশ্চিত হন যে, ধর্ষণ ঘটনায় জন্ম নেয়া কন্যাশিশুটির জৈবিক পিতা অভিযুক্ত মোঃ হেলাল।

মামলা দায়েরের প্রায় ১৩ বছর পর আদালত শিশুটির পিতৃত্বের স্বীকৃতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

এ রায়ে সন্তুষ্ট হয়ে শিশু কলি আকতার বলেন, আমি জন্মের পর থেকেই আদালত,পুলিশ ও আইনজীবীদের দারে দারে গিয়েছি আমার পিতৃ পরিচয়ের জন্য। আজকে আমি আমার অধিকার ফিরে পেয়েছি এবং সঠিক বিচার পেয়েছি।

প্রতিবেশী ইবাদ হোসেন বলেন, শিশুটি তার অধিকার ফিরে পেল, পিতৃ পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হলো এবং উত্তর অধিকারী ফিরে পেয়ছে এই আদালতের রায়ের মাধ্যমে।

মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নূরুল কবীর রুবেল। এবং বাদী পক্ষে ছিলেন মানবেন্দ্র বিকাশ উজ্জ্বল।

রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট নূরুল কবীর রুবেল বলেন, আজকের যে আসামী তাকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে, আনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ধর্ষণের ঘটনার পরে মামলা দায়েরের বছর খানিক পরে মৃত্যু বরণ করেন ধর্ষিতা। কিন্তু ধর্ষণের পর জন্ম নেয়া যে শিশু সে ১৩ বছর যাবৎ আদালতের দোরগোড়ায় আত্মীয় স্বজন নিয়ে ঘুরতে ছিল পিতৃত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য।

আজকে আদালতের রায়ের মাধ্যমে তার পিতৃ পরিচয় ফিরে পেয়েছে এবং আসামি হেলালের উত্তর অধিকারী হিসাবে আদালত রায় দিয়েছে।



banner close
banner close