জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার পর ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন মো. সজিব শাহরিয়ার নামে এক যুবক। এ ঘটনার পর জুলাই নিয়ে করা কুরুচিপূর্ণ পোস্টের দায় স্বীকার করে ফেসবুকে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে সজিব তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে একটি পোস্ট দেন। সে ডোমারের চিলাহাটি হাজীরহাট এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
সজিব শাহরিয়ার তার পোস্টে লিখেন, 'আপনারা ইতোমধ্যে অনেকেই জেনে গেছেন যে গত ১ জুলাই আমি আমার এই ফেসবুক আইডি থেকে বর্তমান বাংলাদেশের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সংবেদনশীল ‘জুলাই’ মাস ও ‘জুলাই’ আন্দোলনকে কটাক্ষ করে একটি পোস্ট করেছিলাম। এর ফলে আপনারা অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন, ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং বাংলাদেশের গণমানুষের এই বিপ্লব চরমভাবে অপমানিত হয়েছে। আমি সকলের কাছে আমার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য হাত জোড় করে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং ভবিষ্যতেও আর কখনোই এ ধরনের কোনো ভুল না করার অঙ্গীকার করছি।
একটি বিশেষ কারণ আমি আপনাদের জানাতে চাই। আপনারা অনেকেই জানেন, গত ২৬ জুন শুক্রবার দুপুর ৩টার দিকে আমি এক ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হই। যার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। এ দুর্ঘটনায় আমার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং কপালের খুলির কিছু অংশ ভেঙে যায়। আমাকে মুমূর্ষু অবস্থায় রংপুর প্রাইম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে কিছুটা উন্নতি হলে গত ৩০ জুন আমাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে আমি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত ছিলাম এবং আমার হিতাহিত জ্ঞান বা স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি বলতে কিছু ছিল না।
সম্পূর্ণ সেই অস্বাভাবিক মানসিক ও শারীরিক অবস্থাতেই না বুঝে আমি গত ১ জুলাই ওই অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্টটি ফেসবুকে প্রকাশ করে ফেলি। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা শেষে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর আমি বুঝতে পারছি, আমার ওই পোস্টটি করা চরম ভুল এবং একটি বড় অপরাধ হয়েছে।
আমার এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি পুনরায় আপনাদের সকলের কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা চাইছি। দয়া করে আমার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে আমাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন। বিনীত ও ক্ষমাপ্রার্থী, মো. সজিব শাহরিয়ার।
সজিবের এমন পোস্টের পর অনেকেই বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং তার উদ্দেশ্যে পরামর্শমূলক মন্তব্য করছেন।
মো. ফারুখ নামে একজন মন্তব্য করেন, 'আওয়ামী লীগের ভূত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো। আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাংলাদেশ থেকে বিদায়। যদি ফিরে আসে, আওয়ামী লীগ নামে না হোক অন্য নামে, কিন্তু আওয়ামী লীগকে এ দেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না। তারা বাংলাদেশের মানুষের রক্তের ওপর নাচতে পারে। সেই দল থেকে বাইরে আসো চাচা, তুমি অবশ্যই বুঝবে।'
মো. আনোয়ার মন্তব্য করেন, 'ভাতিজা, তুমি যে দলেরই রাজনীতি করো, মনুষ্যত্ব ঠিক রেখে রাজনীতি করো।'
মিম মেহেদী হাসান লিখেন, 'আল্লাহ তোমাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করুন, ছোট ভাই। মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়াটা সাহসের পরিচয়। আশা করি সবাই তোমার পরিস্থিতি বিবেচনা করে মানবিক দৃষ্টিতে দেখবে। নিজের চিকিৎসার দিকে মনোযোগ দাও। ইনশাআল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে।'
ছাত্রলীগ সমর্থিত হওয়ায় সে প্রায় সময়েই সজিব তার ফেসবুক আইডিতে আওয়ামীগ-ছাত্রলীগ এর পক্ষে বিভিন্ন পোষ্ট করতো বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। তবে নিজের ভুল শিকার করার পর তার এমন অনুসূচনা ইতিবাচক ভাবে নিয়েছে অনেকেই।
কেতকিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম রোমান ক্ষোভ প্রকাশ করে সারাবাংলাকে বলেন, 'আমি যতটুকু জানি, ওই ছেলেটির মানসিক সমস্যা রয়েছে। বাবা-ছেলে দুজনেরই আচরণ অস্বাভাবিক। কখন কী করে, তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। বিষয়টি আমি শুনেছি এবং দেখেছি, এটি নিয়ে অনেকেই ফেসবুকে লিখেছেন। পরে সে নিজেও ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে ক্ষমা চেয়েছে।'
আরও পড়ুন:








