ঢাকার ধামরাইয়ে আধ্যাত্মিক সাধুত্বের আড়ালে এক বৃদ্ধের অসম বিয়ের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার সুয়াপুর ইউনিয়নের সূয়াপুর গ্রামে ৭৫ বছর বয়সী হিন্দু সাধু শ্রী গোপাল চন্দ্র ঘোষের ২৫ বছরের এক যুবতীকে বিয়ের এই ঘটনায় চলছে নানান আলোচনা সমালোচনা৷
বয়সের প্রায় অর্ধশত বছরের ব্যবধানের এই বিয়েকে স্থানীয় ও নেটিজেনরা ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সূয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্রী গোপাল চন্দ্র ঘোষ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একজন ‘সাধু ব্যক্তি’ ও আধ্যাত্মিক পুরুষ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি তিনি সাভার এলাকার ২৫ বছর বয়সী ময়না শাহা পূজা নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন।
চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ওই তরুণীর মা দীর্ঘদিন ধরে গোপালের আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন। সেই সুবাদে গুরুকুলের পবিত্র সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এবং পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে এই অসম বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ওই বৃদ্ধ।
নেটিজেনরা বলছেন একজন সাধু পুরুষের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। আধ্যাত্মিকতার দোহাই দিয়ে ২৫ বছরের এক নাতনি বয়সী মেয়েকে বিয়ে করাটা সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের চরম রূপ।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ( ফেসবুকে) ছড়িয়ে পড়লে সুয়াপুরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বইছে। একজন সাধু ব্যক্তি হয়ে নিজের বয়সের চেয়ে ৫০ বছরের ছোট এক যুবতীকে জীবনসঙ্গী করায় তার অনেক ভক্তই চরম বিব্রত ও ক্ষুব্ধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভক্ত জানান, যুবতীর পরিবর্তে তাঁর যদি বিয়ের এতই প্রয়োজন ছিল, তবে কোনো মধ্যবয়সী নারীকে করতে পারতেন।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মাঝেও তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক খোলস ব্যবহার করে এমন অসম বিয়ে কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
এই অসম ও বিতর্কিত বিয়ের পর থেকে এলাকায় সাধুর প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের জায়গায় বড় ধরনের চির ধরেছে, যা নিয়ে এখনো চলছে নানা কানাঘুষা।
আরও পড়ুন:








