বুধবার

৮ জুলাই, ২০২৬ ২৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

বগুড়ায় খাল খননের শ্রমিকের তালিকায় চেয়ারম্যান-মেম্বার-শিক্ষক-প্রবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৩

শেয়ার

বগুড়ায় খাল খননের শ্রমিকের তালিকায় চেয়ারম্যান-মেম্বার-শিক্ষক-প্রবাসী
ছবি সংগৃহীত

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য নেওয়া খাল পুনর্খনন প্রকল্পে শ্রমিকের তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রমিকদের তালিকায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সদস্য (মেম্বার), স্কুলশিক্ষক, প্রবাসী, চাকরিজীবী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় সোনারায় ইউনিয়নের খুপি হাড়িভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আটবাড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প পর্যন্ত খাল পুনর্খননের কাজ হাতে নেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। গত ৫ মে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।

প্রকল্পের শ্রমিক তালিকায় মোট ২৯৭ জনের নাম থাকলেও সরেজমিনে দেখা গেছে, খননকাজে খননকারী যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে এবং হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিক কোদাল দিয়ে খালের পাড় বাঁধার কাজ করছেন।

স্থানীয় শ্রমিকদের ভাষ্য, উদ্বোধনের দিন প্রায় ১৫০ জন শ্রমিক উপস্থিত থাকলেও পরদিন থেকে শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বর্তমানে নিয়মিত কাজ করছেন মাত্র ৫০ থেকে ৬০ জন। তাদের দাবি, শ্রমিকের তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।

তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, জামিরবাড়িয়া গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসী মামুনের নাম শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় দেওয়া মোবাইল নম্বরটি তার ছোট ভাই সুমনের। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হজরত আকন্দ, তার ছেলে স্কুলশিক্ষক রবিউল ইসলাম আকন্দ ও রুহুল আমিন আকন্দের নামও তালিকায় রয়েছে। একই তালিকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী কবির হোসেন এবং সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজা মণ্ডলের নামও পাওয়া গেছে।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হজরত আলীর ছেলে ও স্কুলশিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, এই খাল খনন প্রকল্পে দুজন "ভিআইপি শ্রমিক" রয়েছেন, যার মধ্যে তিনি নিজেও একজন।

অভিযোগের বিষয়ে সোনারায় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজা মণ্ডল বলেন, ২৯৭ জনের তালিকা প্রস্তুতের সময় শ্রমিকের ঘাটতি ছিল এবং দ্রুত তালিকা জমা দেওয়ার তাগিদ থাকায় পরিষদের হিসাব সহকারী তার, কয়েকজন সদস্য, প্রবাসী ও এক স্কুলশিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। পরে তালিকা সংশোধন করে তার নাম বাদ দিয়ে ছোট ভাই রাজু মণ্ডলের নাম যুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বর্তমানে খাল পুনর্খননের কাজ বন্ধ রয়েছে।

গাবতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মজিদুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে শ্রমিক তালিকায় চেয়ারম্যান, মেম্বার, তাদের ছেলে, প্রবাসী ও স্কুলশিক্ষকের নাম থাকার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভিযোগ ওঠার পর তালিকা সংশোধন করা হয়েছে এবং বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে। গত ২০ জুন থেকে পুনরায় কাজ শুরু হলেও অর্থবছর শেষ হওয়ায় বর্তমানে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আবার কাজ শুরু হবে।

এ বিষয়ে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, খাল খননের শ্রমিক তালিকায় এ ধরনের অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। তালিকা এখনও তার হাতে পৌঁছেনি এবং প্রকল্পের বিলও পরিশোধ করা হয়নি। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



banner close
banner close