ময়মনসিংহের আর কে মিশন রোডে মাত্র ১৫ দিন আগে ঘরভাড়া নেওয়া যুবক রাজিব আহমেদ রুবেলকে গলা কেটে হত্যা করেছে বাড়িওয়ালার চার ছেলে। আসামিরা দাবি করেছে, মায়ের শ্লীলতাহানির প্রতিশোধ নিতেই তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
গত ৫ জুলাই সকালে আর কে মিশন রোডের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ৩৮ বছর বয়সী রাজিব আহমেদ রুবেল এলাকায় কাইল্ল্যা রুবেল নামে পরিচিত ছিলেন। বাসায় মাদকের আসর বসানো নিয়ে ৫০ বছর বয়সী বাড়িওয়ালা পারুল বেগমের সঙ্গে তার বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। ঘরের ভেতর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করা হয়। একই সময় বাইরে নিহতের চাচাতো ভাইয়ের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
নিহতের বাবা আব্দুল হামিদ শয্যাশায়ী রক্তাক্ত রুবেলকে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুরো ময়মনসিংহ নগরীতে তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনাস্থলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই ছুটে যায়।
নিহতের পরিবারের দাবি, রুবেল অতীতে মাদক কারবারে জড়িত থাকলেও অনেক আগেই সেই পথ ছেড়ে ভালো হয়ে গিয়েছিলেন। তারা বাড়ির মালিক ও তার পরিবারের সদস্যদের পরিকল্পিতভাবে জড়িত বলে অভিযোগ করে। নিহতের বাবা বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। জেলা গোয়েন্দা শাখা সজল ও রনি নামে দুজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
পিবিআই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিমের তত্ত্বাবধানে পরিদর্শক মোজাম্মেল হক মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও সুনিপুণ গোয়েন্দা জালে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীরা ধরা পড়ে। তারা হলেন বাড়িওয়ালা ফজলুল হক ও পারুল বেগম দম্পতির চার আপন ছেলে — ৩০ বছরের রহমত, ২৮ বছরের জনি, ২৬ বছরের রকি ও ১৮ বছরের ইমরাজ।
গ্রেপ্তারের পর আসামিরা দাবি করে, তাদের মায়ের শ্লীলতাহানির কারণেই চার ভাই মিলে এই খুনের ছক সাজিয়েছিল। মো. মিজানুর রহমান, পিবিআই, ময়মনসিংহ জানান, আসামিদের দাবি অনুযায়ী মায়ের সঙ্গে শ্লীলতাহানি ও বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তবে ধর্ষণের অভিযোগ থাকলেও প্রাথমিকভাবে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
সোমবার দুপুরে চার সহোদরকে কড়া নিরাপত্তায় ময়মনসিংহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








