নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি এবং টানা বৃষ্টিতে ঝালকাঠি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল, তলিয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি। আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। এ ছাড়া ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে নদীতীরের অসংখ্য পরিবারের।
সোমবার সকাল থেকে ঝালকাঠির আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। থেমে থেমে গুঁড়িগুঁড়ি ও ঝড়ো বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের প্রভাবে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় পানি পৌঁছে গেছে বেড়িবাঁধের কাছাকাছি। তলিয়ে গেছে নদীতীরবর্তী এলাকার সড়ক ও ফসলি জমি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যারা প্রতিদিন কাজের সন্ধানে বের হন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন আমন মৌসুমের কৃষকরা। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানের বীজতলা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, পানি আরও বাড়লে রোপণের জন্য প্রস্তুত করা বীজ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
দিনমজুরদের জন্যও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। মাঠে পানি জমে যাওয়ায় অনেকের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে আয়ের পথ বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
স্কুলগামী শিক্ষার্থীদেরও পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে গ্রামীণ সড়কে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে, কোথাও কোথাও স্কুলে যাওয়া-আসার পথও ডুবে গেছে।
বিষখালী নদীতীরবর্তী চর ভাটারকান্দা এলাকায় নতুন করে দেখা দিয়েছে নদীভাঙনের আতঙ্ক। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু অংশে ব্লক ফেলে ভাঙন রোধ করা গেলেও বেশ কয়েকটি স্থানে নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত জসিম হাওলাদার নামে এক কৃষক বলেন, কষ্ট করে বীজতলা বানাইছিলাম, এখন পানিতে সব ডুবে গেছে। আর কয়দিন পানি থাকলে পুরোটাই নষ্ট হয়ে যাবে।
দিনমজুর জলিল বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কাজ বন্ধ। ঘরে খাবার জোগাড় করাই এখন কঠিন হয়ে গেছে।
ঝালকাঠি সদরের তারুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালাউদ্দিন সোহাগ বলেন, গ্রামের অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। যার কারণে স্কুলে উপস্থিতি কম। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারে না।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এতে আমনের বীজতলার কিছু ক্ষতি হয়েছে বলে তাদের কাছেও তথ্য এসেছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং প্রয়োজনে কৃষকদের পুনরায় বীজতলা তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হবে।
নদীতীরের বাসিন্দারা জানান, ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়লেই আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। কখন যে ভাঙনের মুখে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, সেই শঙ্কা নিয়েই দিন কাটছে তাদের। তারা দ্রুত কার্যকর নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
আরও পড়ুন:








