রবিবার

৫ জুলাই, ২০২৬ ২১ আষাঢ়, ১৪৩৩

১০ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৬

শেয়ার

১০ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের এক কর্মী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্পের কাজ নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করেই কোটি টাকার বিল উত্তোলন করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, বিল উত্তোলনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কার্যত লাপাত্তা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড লিবার্টি ট্রেডার্স (জেভি) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ নেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের এক ড্রাফটসম্যান। মৌলভীবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদুজ্জামানের যোগসাজশে তিনি কাজটি পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, ২০২৩ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ পায় প্রতিষ্ঠানটি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপরও কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোটি টাকার বিল উত্তোলন করে প্রকল্প এলাকা ত্যাগ করে।

বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির অর্থায়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের যৌথ বাস্তবায়নে মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যবিধি শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২৫ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

প্রকল্পের আওতায় মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার সব ইউনিয়নে ৭৬টি পানি সরবরাহ লাইন স্থাপন এবং কমিউনিটিভিত্তিক পাইপলাইনের মাধ্যমে হতদরিদ্র ৩০ থেকে ৪০টি পরিবারকে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, মৌলভীবাজার সদরের ৩৮টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র দুটি স্থানে আংশিক কাজ হয়েছে। রাজনগর উপজেলার ৩৮টি প্রকল্পের একটিতেও কোনো কাজ হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় এক বছর ধরে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।

রাজনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতির বিষয়ে তারা অবগত নন। অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম হয়নি।

মৌলভীবাজার সদরের চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের কির্তার মহলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আংশিক কাজ করার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের প্রায় ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে মোটর, পাইপ ও মিটার সংযোগ স্থাপন করে পানি সরবরাহ চালু করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মালাকার বলেন, এখানে ৩০টি পরিবার এই লাইন থেকে পানি পায়। মোটর, সিঁড়ি কিছুই দেওয়া হয়নি। ঠিকাদার যে পাইপ লাগিয়েছিল, তা কয়েক দিনের মধ্যেই ফেটে যায়। কাজ খুবই নিম্নমানের হয়েছে।

এদিকে জেলা ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কত টাকা বিল উত্তোলন করেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারেনি। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদুজ্জামানের কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, শাহিন আলম একসময় ফেনী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ড্রাফটসম্যান ছিলেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ২১ হাজার ৪৭০ টাকা বেতন স্কেলে চাকরিতে যোগ দেন তিনি। গত বছর একটি জাতীয় দৈনিকে তার বিরুদ্ধে ছয় বছরে শতকোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড লিবার্টি ট্রেডার্সের অন্যতম পরিচালক রমিজ মিয়া বলেন, এই কাজের মালিক শাহিন। সে জনস্বাস্থ্যে চাকরি করে আবার ঠিকাদারিও করছে। আমি থাকা অবস্থায় ৯০ লাখ টাকার বিল তুলেছিলাম। এরপর আর জানি না।

মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মৌলভীবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের এই কাজের বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। কত বিল তোলা হয়েছে, তাও জানি না। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শেষ করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক তবিবুর রহমান তালুকদার বলেন, শাহিন আলম নিজের নামের লাইসেন্সে কাজ করেননি। তিনি অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহিন আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।



banner close
banner close