শনিবার

৪ জুলাই, ২০২৬ ২০ আষাঢ়, ১৪৩৩

স্বামীর চিকিৎসা আর সংসারের খরচ জোগাতে অন্যের বাড়িতে কাজ করছেন বৃদ্ধা স্ত্রী

সাগর মন্ডল, বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪ জুলাই, ২০২৬ ২১:৪৭

আপডেট: ৪ জুলাই, ২০২৬ ২১:৫৪

শেয়ার

স্বামীর চিকিৎসা আর সংসারের খরচ জোগাতে অন্যের বাড়িতে কাজ করছেন বৃদ্ধা স্ত্রী
ছবি বাংলা এডিশন

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড় বাঁক গ্রামের বাসিন্দা প্রায় ৬৫ বছর বয়সী অধীর চন্দ্র বাড়ৈ ছয়-সাত বছর আগে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। এরপর থেকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কর্মক্ষমতা হারানোয় সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে স্ত্রী হরিদাসী দেবীর কাঁধে। জীবিকার তাগিদে বৃদ্ধ বয়সেও তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করছেন।

একসময় ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন অধীর চন্দ্র। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সেই আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাদের চার মেয়ে। স্থানীয়দের সহায়তায় তিন মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে এখনও অন্যের বাড়িতে কাজ করে মায়ের সঙ্গে সংসারের খরচ জোগাতে চেষ্টা করছেন। কিন্তু সামান্য এই আয় দিয়ে চিকিৎসা ও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

হরিদাসী দেবী বলেন, স্বামী স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি প্রায় পুরোপুরি কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে তিনি ও ছোট মেয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করছেন। তবে যা আয় হয়, তা দিয়ে দুই বেলা খাবার জোটানোই কষ্টকর। চিকিৎসা তো অনেক দূরের বিষয়।

অধীর চন্দ্র বলেন, একসময় ভ্যান চালিয়েই পরিবারের সব দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু স্ট্রোকের পর থেকে আর কাজে ফিরতে পারেননি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

চিকিৎসা করাতে পারলে আবার কিছুটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন—এমন আশা করছেন অধীর চন্দ্র। তাই সমাজের বিত্তবান, মানবিক মানুষ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধা হরিদাসী দেবী নিজের কষ্টের কথা না ভেবে প্রতিদিন বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারের খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন। চার মেয়ের এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে অভাবের সঙ্গে লড়াই করছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকা, যা এই পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব।



banner close
banner close