চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন শহরে চায়ের দোকানে চা বিক্রির আড়ালে চলছে জুয়ার আসর। জেলার বিভিন্ন এলাকায় চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যারাম বোর্ড ও অন্যান্য খেলাধুলার আড়ালে অবৈধ জুয়ার আসর বসানোর তথ্য জেলা পুলিশের কাছে রয়েছে। এসব বিষয়ে জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নিবিড়ভাবে নজরদারি করছে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ক্যারাম বোর্ডের মাধ্যমে জুয়া খেলার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে জীবননগর থানা পুলিশ।
অভিযানের সময় জুয়াড়িরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে দুটি ক্যারাম বোর্ড জব্দ করা হয়েছে।
জীবননগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) (নিঃ) পবিত্র কুমার বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে প্রধান আসামি করা হয়েছে জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামের রহিম মণ্ডলের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৬)-কে। এছাড়া মামলায় আরও যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন— লক্ষ্মীপুর গ্রামের বিল্লালের ছেলে মাসুম (২৫) ও মাহবুব আলম (২৯), দেহাটি খালপাড়া গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে জামাত আলী (৩০), দেহাটি শাহপাড়া গ্রামের আবু বক্করের ছেলে লালন (৩২), আন্দুলবাড়ীয়া রাজধানীপাড়া গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের ছেলে জব্বার (২৬), আন্দুলবাড়ীয়া মীরপাড়ার আমিনুর রহমান টুরার ছেলে রুবেল (২৪), সুটিয়া গ্রামের মুছার ছেলে সামাউল (২৩), বাঁকা পূর্বপাড়ার আনসার আলীর ছেলে জাফর হোসেন (২৫), বাঁকা নওদাপাড়ার শাবুলের ছেলে ফারুক (২৭), মিনাজপুর গ্রামের সাদ আহমেদের ছেলে রাজু আহমেদ সুইট (২৭), কোর্টপাড়া এলাকার নজরুল ইসলাম (৩০), তেঁতুলিয়া গ্রামের শিকদার (৩৫) ও মিন্টু (৩০)। এছাড়াও মামলায় আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে জীবননগর থানার জিডি নং-১৪৪-এর ভিত্তিতে এসআই পবিত্র কুমার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রাত্রীকালীন জরুরি ডিউটি পালনকালে গোপন সংবাদ পান যে, জীবননগর-দর্শনা মহাসড়কের পাশে আধুনিক সিনেমা হলের সামনে অবস্থিত মো. দেলোয়ার হোসেনের চায়ের দোকানের ভেতরে ক্যারাম বোর্ডের মাধ্যমে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে তাদের নির্দেশে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে।
রাত আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে অবস্থানরত জুয়াড়িরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে দোকানটি তল্লাশি চালিয়ে দুটি কাঠের ক্যারাম বোর্ড জব্দ করা হয়। জব্দকৃত প্রতিটি ক্যারাম বোর্ডের মূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা, যার মোট মূল্য ২০ হাজার টাকা। ঘটনাস্থলেই জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে সাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয় এবং জব্দকৃত আলামত থানায় নিয়ে আসা হয়।
মামলার এজাহারে পুলিশ উল্লেখ করেছে, প্রধান আসামি মো. দেলোয়ার হোসেন তার চায়ের দোকানকে নিয়মিত জুয়া খেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার করতে দেন। তিনি দোকানঘর, ক্যারাম বোর্ড ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে জুয়ার আসর পরিচালনার সুযোগ করে দেন এবং জুয়া খেলায় অংশগ্রহণকারীদের সহযোগিতা করেন। অন্যান্য আসামিরাও ক্যারাম বোর্ডের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে জুয়া খেলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার পর থেকেই পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে জীবননগর থানার বিভিন্ন টিম অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, জুয়া, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যারাম বোর্ড ও অন্যান্য খেলাধুলার আড়ালে অবৈধ জুয়ার আসর বসানোর তথ্য জেলা পুলিশের কাছে রয়েছে। এসব বিষয়ে জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নিবিড়ভাবে নজরদারি করছে। তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় জীবননগরে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী মামলা করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, "জুয়া, মাদক ও সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অবস্থান 'জিরো টলারেন্স'। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের অভিযান আগামীতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।"
আরও পড়ুন:








