২০২৪ সালের ৪ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। দিনটির স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন ও দ্রোহের গানের আয়োজন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এসময় জুলাই আন্দোলনে আহত ও অংশগ্রহণকারী সকল সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
এতে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক ও এনসিপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন মুখ্য সংগঠক নাবিদ নওরোজ শাহ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠক নাঈম ভূঁইয়া অংশ নেন।
অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদ্যোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হলেও আন্দোলনকে সামনে এগিয়ে নেয়ার সাহস যুগিয়েছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুই বছর আগে ৪ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে রাজপথে নেমেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর প্রথম পুলিশের গুলি চালানো হয়। এতে শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হলেও তারা দমে যায়নি। বরং এই ঘটনাই আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। পরবর্তীতে ‘বাংলা ব্লক’সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং আন্দোলনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক নাবিদ নওরোজ শাহ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আন্দোলন ছিল না; এটি সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে সম্পৃক্ত করেছিল। সেই আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৪ জুলাই কুবির শিক্ষার্থীরা কোটবাড়ী বিশ্বরোড অবরোধের মাধ্যমে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে ১১ জুলাইয়ের ঘটনাকে স্মরণ করতেই হয়, যা ইতোমধ্যে ‘কুমিল্লা প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথমে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তারা কোটবাড়ি বিশ্বরোডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ করেন।
আরও পড়ুন:








