শুক্রবার

৩ জুলাই, ২০২৬ ১৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসক সাংবাদিক দেখে দৌঁড়ে পালালেন

জসিম উদ্দীন জোসি, চাঁপাই নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬ ১৪:২৬

শেয়ার

প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসক সাংবাদিক দেখে দৌঁড়ে পালালেন
ছবি: সংগৃহীত

চলছিল অফিস টাইম। থাকার কথা ছিল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে। অথচ সরকারি দপ্তর ফাঁকি দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন প্রাইভেট হাসপাতালে। এমন অবস্থায় কয়েকজন সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখা মাত্রই দৌড়ে পালিয়ে গেলেন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া সেই চিকিৎসক৷ হাতেনাতে ধরা খেয়ে এমন দৌড়ে পালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফাইরাল হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের আরামবাগ এলাকার চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া অবস্থায় ধরা খেয়ে এমন দৌড়ে পালানোর ভিডিও ফাইরাল হওয়ায় পর শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অভিযুক্ত চিকিৎসক মো. ইনজামাম উল হক। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুরে চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়ে ডা. মো. ইনজামাম উল হক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এমনকি ভাইরাল হওয়া ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে, এক রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম করছিলেন তিনি। এসময় কয়েকজন সাংবাদিক তাকে সেখানে গিয়ে দেখতে পান এবং ভিডিও ধারন করেন। চিকিৎসা দেয়া অবস্থায় সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখতে পেয়েই চেয়ার থেকে উঠেই ভৌঁ দৌড় দেন ডা. ইনজামাম উল হক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতক্ষ্যদর্শী মিনার আহমেদ, সাকির আলী জানান, হঠাৎ করেই হাসপাতাল থেকে ডাক্তারকে দৌড়ে বেরিয়ে আসতে দেখতে পায়। তার পেছন পেছন কয়েকজন সাংবাদিকও ক্যামেরা নিয়ে আসে। এরপর রাস্তায় দাঁড়িয়ে ওই চিকিৎসকও নিজের মুঠোফোন বের করে সেখানে নামাজ পড়তে এসেছেন বলে দাবি করে ফেসবুকে লাইভ করতে থাকেন। পরে জানা গেল, তিনি (ডা. ইনজামাম উল হক) অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে এসে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।

চিকিৎসকের দৌড়ে পালানোর ভিডিও ফাইরাল হওয়ায় পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম নামের এক যুবক লিখেছেন, জনগণের টাকায় সরকারি দপ্তরে চাকুরি করে সেখানে নিয়মিত থাকেন না। অথচ অফিস টাইমে তাকে পাওয়া যায় প্রাইভেট হাসপাতালে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এভাবেই এসব চিকিৎসককে রুখে দিতে হবে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন ও তত্বাবধায়ক শ্রী বিশ্বজিৎ মুঠোফোনে সময় সংবাদকে জানান, দুপুরের বিরতিতে সিভিল সার্জন অফিস থেকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে এসেছিলেন ডা. ইনজামাম উল হক। শ্রী বিশ্বজিৎ আরও জানান, একটি সিন্ডিকেট প্রত্যেক চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল এই সিন ক্রিয়েট করা হয়েছে। এটি নিছকই সাংবাদিকদের সাথে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) ডা. মো. ইনজামাম উল হক। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিলেও উত্তর দেননি তিনি। এদিকে, রাত ১২টার দিকে ডা. মো. ইনজামাম উল হক তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, "আলহামদুলিল্লাহ, আজ চারজন সাংবাদিক ও ডা. মো: ইনজামাম উল হক এর মধ্যে উদ্ভূত যে পরিস্থিতি নিয়ে ভূল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিলো, তার সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে। নেতিবাচক মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন।

এবিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন মুঠোফোনে সময় সংবাদকে বলেন, ডা. ইনজামাম উল হক সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমার সাথে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে অফিসেই ছিল। কিন্তু অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। এনিয়ে কোন অভিযোগও পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, অফিস চলাকালীন সময়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কোন সুযোগ নেই। এমন কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



banner close
banner close