বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পাগলা শ্যামনগর গ্রামের দিনমজুর আব্দুল মালেক মাতব্বরের মেয়ে রাবেয়া আক্তার। দশম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর মুখের ডান পাশে বড় একটি টিউমার রয়েছে। পাশাপাশি একটি চোখের দৃষ্টিশক্তিও হারিয়েছেন তিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিউমারটির আকারও বড় হচ্ছে। তবুও শারীরিক কষ্ট উপেক্ষা করে প্রতিদিন স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন রাবেয়া।
অভাবের সংসারে মা–বাবাকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজের লেখাপড়াও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। স্বপ্ন দেখেন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। তবে সেই স্বপ্নের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জটিল শারীরিক অবস্থা।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, রাবেয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে এত অর্থ ব্যয় করা সম্ভব নয়। ফলে অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি।
রাবেয়া আক্তার বলেন, অনেক সময় মানুষ তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কটূক্তি করে। তবুও তিনি ভেঙে পড়েননি। লেখাপড়া শেষ করে ভালো কিছু করার ইচ্ছা রয়েছে তার। এজন্য সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
রাবেয়ার বাবা আব্দুল মালেক বলেন, আর্থিক সংকটের মধ্যেও তিনি মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ করতে চান না। তবে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা পেলে মেয়ের চিকিৎসা ও পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মা রোজিনা বেগম বলেন, জন্মের পর থেকেই রাবেয়া নানা শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছে। মুখে টিউমার থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও তার কষ্ট হয়। তারপরও সে পড়াশোনা ছাড়তে রাজি নয়। মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক সংকট সত্ত্বেও রাবেয়ার শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ এবং মানসিক দৃঢ়তা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ। তারা মনে করেন, সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে রাবেয়া স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে তার স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হবে।
পরিবারের প্রত্যাশা, সমাজের মানবিক ও বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা রাবেয়ার চিকিৎসার পথ সুগম করবে এবং নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাবে এই সংগ্রামী শিক্ষার্থীকে।
আরও পড়ুন:








