শুক্রবার

৩ জুলাই, ২০২৬ ১৮ আষাঢ়, ১৪৩৩

নওগাঁয় স্কুল ছুটি দিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের কোচিং বাণিজ্য

শহিদুল ইসলাম, ব্যুরো প্রধান রাজশাহী

প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৬ ২১:৫৮

শেয়ার

নওগাঁয় স্কুল ছুটি দিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের কোচিং বাণিজ্য
ছবি: বাংলা এডিশন

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সিংড়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ( ভারপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ছুটির পর সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয়ের কক্ষেই পাঠদান করছেন তিনি এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসিক ৩০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়, বিকেল প্রায় ৪টা ৩০ মিনিটে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে পাঠদান করছেন প্রধান শিক্ষক ( ভারপ্রাপ্ত ) শহিদুল ইসলাম। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, বিদ্যালয় ছুটির পর নিয়মিতভাবেই প্রধান শিক্ষক তাদের পড়ান। এ জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩০০ টাকা করে নেয়া হয়। অনেকদিন ধরেই এ কার্যক্রম চলে আসছে বলেও জানায় তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের কক্ষেই শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে আসছেন। বিষয়টি অনেকেই জানলেও বিভিন্ন কারণে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না। সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত আয়ের জন্য ব্যবহার করা ঠিক নয়।"

আরেক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "এভাবে সরকারি বিদ্যালয়ে টাকা নিয়ে প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ হওয়া উচিত। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের সেখানে পাঠান। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, "আরও অনেকেই পড়ান, তাই আমিও পড়াচ্ছি। এলাকার গরিব বাচ্চাদের পড়াই। এবারের মতো মাফ করে দিন, নিউজ করিয়েন না।"

এ বিষয়ে নওগাঁর সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এম, এম, মাহবুবুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য করার কোনো নিয়ম নেই। অভিযোগ প্রমানিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।



banner close
banner close