বুধবার

১ জুলাই, ২০২৬ ১৭ আষাঢ়, ১৪৩৩

১২ দিনেও হারুনার রশিদের কোনো হদিস নেই, সন্ধানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

কে এম জারিদুল ইসলাম, যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ জুলাই, ২০২৬ ১৪:০৯

শেয়ার

১২ দিনেও হারুনার রশিদের কোনো হদিস নেই, সন্ধানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
ছবি: বাংলা এডিশন

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার গোপীকান্তপুর গ্রামের কৃষক মো. হারুনার রশিদ নিখোঁজ হওয়ার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। বুধবার যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. এমরান আলী এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২০ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হারুনার রশিদ কেশবপুরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। পরিবারের দাবি, তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওনা কিছু টাকা আনার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। এরপর আর তিনি বাড়ি ফেরেননি।

তবে হারুনের স্ত্রী শিপলি বেগমের দাবি ভিন্ন। তার ভাষ্য, শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন আসার পর আরও একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। সেই ফোন পাওয়ার পরই হারুন বাড়ি থেকে বের হন। এ দুই বক্তব্যের বিষয়টি তদন্তের স্বার্থে থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতেও উল্লেখ রয়েছে বলে পরিবারের দাবি।

এ ঘটনায় ২১ জুন মণিরামপুর থানায় জিডি (নং-১১২৩, ট্র্যাকিং নং: ZOVX6L) করা হয়। পরিবারের ভাষ্য, জিডির পর পুলিশ হারুনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে জানতে পারে, তার সিমের সর্বশেষ অবস্থান সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জুইখালী-কামারালী এলাকার কাছে শনাক্ত হয়। পরদিন পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা তল্লাশি চালালেও কোনো সন্ধান পাননি।

সংবাদ সম্মেলনে এমরান আলী অভিযোগ করেন, তদন্তের অংশ হিসেবে একজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে মামলার তদন্তে র‌্যাব-৬ যুক্ত হয় এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করে।

তিনি বলেন, 'আজ পর্যন্ত প্রশাসন আমাদের জানাতে পারেনি আমার ভাই জীবিত নাকি মৃত। কোনো সন্দেহভাজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। প্রযুক্তির এই যুগে ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও আমরা কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না।'

পরিবার জানায়, হারুনার রশিদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি স্ত্রী, এক বিবাহিত মেয়ে, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মেয়ে এবং চার বছরের এক ছেলে রেখে নিখোঁজ রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরিবার প্রশাসনের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেয়া এবং দ্রুত হারুনার রশিদকে উদ্ধারের দাবি জানায়।



banner close
banner close