শিশুরা জন্মগতভাবেই অসীম সম্ভাবনার অধিকারী। সেই সম্ভাবনার বিকাশে প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা, উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ এবং পরিবারের আন্তরিক সহযোগিতা। এমনই এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে খাগড়াছড়ির ক্ষুদে প্রতিভা মোহাম্মদ শেহজাদ বিন খলিল। মাত্র ১৮ মাস বয়সেই তিনি অর্জন করেছেন Asia Book of Records-এর মর্যাদাপূর্ণ "Grand Master" স্বীকৃতি, যা বাংলাদেশের জন্যও এক গর্বের অর্জন।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার বাসিন্দা শেহজাদের বাবা মো. ইব্রাহিম খলিল জানান, ছেলের বয়স যখন মাত্র ৭ মাস, তখন থেকেই খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে তাকে ইংরেজি ভাষার সঙ্গে পরিচিত করানো শুরু হয়। কোনো ধরনের চাপ বা মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে ছবি, খেলনা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন বস্তুর মাধ্যমে শেখানো হতো নতুন নতুন শব্দ।
ধীরে ধীরে শেহজাদ ঘরের প্রায় সব জিনিসের নাম ইংরেজিতে চিনতে শেখে। পাশাপাশি ফল, ফুল, পশু-পাখি, যানবাহন ও বিভিন্ন বস্তুর নামও সাবলীলভাবে বলতে শুরু করে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সে প্রথমে ইংরেজিতে শব্দ ও ছোট ছোট বাক্য বলতে শেখে, এরপর ধীরে ধীরে বাংলা ভাষায় কথা বলা শুরু করে।
শাহজাদের এই অসাধারণ ভাষাগত দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মূল্যায়নের জন্য তার বাবা-মা Asia Book of Records-এর কিডস প্রোগ্রামে আবেদন করেন। মূল্যায়নের জন্য ইংরেজিতে কথা বলার ৮টি ভিডিও জমা দেওয়া হয়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে যাচাই-বাছাই শেষে বিচারকরা শাহজাদকে "Grand Master" স্বীকৃতিতে ভূষিত করেন।
এই অর্জনে আনন্দিত পুরো পরিবার। শেহজাদের বাবা মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন,
এটি শুধু আমার সন্তানের সাফল্য নয়, এটি বাংলাদেশেরও সম্মান। বর্তমান বিশ্বে মাতৃভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই সঠিক পরিবেশ ও উৎসাহ পেলে শিশুরা অসাধারণ কিছু অর্জন করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের বয়স উপযোগীভাবে বাংলা ভাষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষার প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম হয়ে উঠবে।
শেহজাদের এই সাফল্য প্রমাণ করে, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই অসীম সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা, ধৈর্য, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের ইতিবাচক সহযোগিতা। মাত্র ১৮ মাস বয়সে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করে শাহজাদ আজ শুধু তার পরিবারের নয়, খাগড়াছড়ি এবং সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব।
বাংলাদেশের শিশুদের সম্ভাবনা যে বিশ্বমঞ্চেও স্বীকৃতি পেতে পারে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে ক্ষুদে প্রতিভা মোহাম্মদ শাহজাদ বিন খলিল।
আরও পড়ুন:








