কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, গঙ্গাধর, শিয়ালদহ ও বোয়ালমারি নদীর মোহনায় অবস্থিত শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপুর হাট অবকাঠামোগত সংকটে জর্জরিত। প্রতিবছর সরকার এই হাট থেকে কোটি টাকার রাজস্ব আয় করলেও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছেন চরাঞ্চলের মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, হাটটির দ্রুত আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করা হলে উত্তরাঞ্চলের নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় একশ বছর আগে গড়ে ওঠা যাত্রাপুর হাট বর্তমানে জেলার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বসা এই হাটকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী ও রৌমারী উপজেলার দুই শতাধিক চরাঞ্চলের প্রায় ৬০ হাজার পরিবারের অন্তত তিন লাখ মানুষ তাদের কৃষিপণ্য ও গবাদিপশু ক্রয়-বিক্রয় করেন। ধান, পাট, সরিষা, কালাইসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য এবং প্রাকৃতিকভাবে লালিত গবাদিপশু বিক্রির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই হাট।
হাটের পাশের যাত্রাপুর নৌঘাট চরাঞ্চলের মানুষের মূল ভূখণ্ডে যাতায়াতের প্রধান প্রবেশদ্বার। প্রতি হাটের দিনে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার যাত্রীবাহী ও মালবাহী নৌকা এই ঘাটে ভিড়ে। যাত্রী, মাঝি ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।
প্রায় পাঁচ একর আয়তনের হাটটিতে পাঁচ শতাধিক স্থায়ী এবং প্রায় দুই হাজার অস্থায়ী দোকান রয়েছে। প্রতি হাটে গড়ে প্রায় ২৫০টি গরু এবং আনুমানিক ১০ কোটি টাকার বেশি পণ্য কেনাবেচা হয়। এ বিপুল বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কারণে চলতি অর্থবছরে হাটটি থেকে সরকার রেকর্ড ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ইজারা রাজস্ব পেয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল রাজস্ব আদায় হলেও হাটের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানি প্রবেশ করায় হাটের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে। কাদা ও পানির মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, হাটের পরিধি বৃদ্ধি, স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং যাতায়াত সুবিধার উন্নয়ন করা হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত হবে এবং চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ হাটের পরিধি বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত অবকাঠামোগত আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপুর হাটকে উত্তরাঞ্চলের আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।
আরও পড়ুন:








