যশোর সদর উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের বাসিন্দা সুজন শ্রী সুজন কুমার শিকদার বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
সোমবার যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে সুজন শিকদার বলেন, তার বাবা সুবল শিকদার দীর্ঘদিন আগে মৌখিক এওয়াজ বদলের মাধ্যমে চাচার জমিতে বসবাস শুরু করেন। সেখানে প্রথমে কাঁচা ঘর এবং পরে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে পরিবারসহ প্রায় ১৭ বছর ধরে বসবাস করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা ওই জমি কিনতে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন কৌশলে অন্যের নামে জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নেন। পরে গত ২২ এপ্রিল বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলামসহ ২০ থেকে ৩০ জন তাদের বাড়িতে এসে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, ভাঙচুর এবং প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল নষ্ট করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, বিষয়টি জানানো হলে প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা পুনরায় বাড়িতে উঠতে সক্ষম হন এবং সমঝোতার আশ্বাস পান। তবে পরে থানায় ডেকে অন্য জমি গ্রহণের প্রস্তাব দেয়া হলেও তারা শুধু বাড়ির ২ দশমিক ২৫ শতক জমি ফেরত চান।
সুজন শিকদারের দাবি, গত ২২ জুন আবারও গোলাম মোস্তফা, শহিদুল ইসলাম ও তাদের সহযোগীরা হামলা চালিয়ে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। একই দিনে কাশিমপুর এলাকার বিএনপি নেতা ইকরামুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সুজন শিকদার বলেন, গত ২২ জুন থেকে তিনি বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, "আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বলেই কি আমাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে?"
তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলের নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের বসতভিটায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:








