সোমবার

২৯ জুন, ২০২৬ ১৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

১০ জেলায় বন্যার শঙ্কা, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬ ১১:৫৭

শেয়ার

১০ জেলায় বন্যার শঙ্কা, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছবি সংগৃহীত

উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে ১০টি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য সতর্কতা জারি করেছে।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও বাড়ছে।

এদিকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা, সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী পাঁচ দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ১ থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি আগামী তিন দিনে আরও বাড়তে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে নদীতীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে এবং ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, মনু, খোয়াই ও ধলাই নদীর পানিও আবার বাড়তে পারে। এতে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম, অরুণাচল ও পশ্চিমবঙ্গে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। উজানের এই বৃষ্টিপাত দেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২৪৮টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১২৭টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৬৯টিতে কমেছে এবং ৫২টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে একটি স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।



banner close
banner close