সোমবার

২৯ জুন, ২০২৬ ১৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে জনমনে বাড়ছে হতাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬ ২২:৩৩

শেয়ার

বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে জনমনে বাড়ছে হতাশা
ছবি সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও কার্যকর সংসদের যে স্বপ্ন দেশের মানুষ দেখেছিল, তা বাস্তবায়নে বিরোধী দলের ব্যর্থতায় জনমনে হতাশা তৈরি হয়েছে। ১৩তম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হলেও শক্তিশালী বিরোধী দলের মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা অপূর্ণ রয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার গঠনের চার মাস পেরিয়ে গেলেও জননিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে ১১ দলীয় জোটের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গুম, খুন, চুরি, ছিনতাই, মাদক ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের তৎপরতা ও রাজধানীর অলিগলিতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য জনজীবনকে আতঙ্কিত করে তুললেও সংসদে এসব বিষয়ে কার্যকর কোনো আলোচনা দেখা যায়নি। অভিযোগ উঠেছে, বিরোধী দল জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকারের মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে সোচ্চার হওয়ার পরিবর্তে সংবিধান সংশোধন ও ব্যক্তিগত বিলাসদ্রব্যের আলোচনায় বেশি আগ্রহী।

সংসদের আলোচনায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও জননিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধী দল এখন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু থেকে দূরে সরে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে সময় ব্যয় করছে। অধিবেশনে গাড়ি, ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওয়েভ ওভেনের মতো প্রসঙ্গ গুরুত্ব পাওয়ায় বিরোধী দলের জনবিচ্ছিন্নতা ফুটে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে পিনাকী ভট্টাচার্য তার এক ভিডিও বার্তায় জানান, বর্তমানে এমন একটি গৃহপালিত বিরোধী দল পাওয়া গেছে যারা আসল আলোচনার ধারেকাছেও যায় না।

সরকার গঠনের আগে বিএনপি যেসব অঙ্গীকার করেছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রেও বিরোধী দলকে নিষ্ক্রিয় দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, বর্তমান বিরোধী দল অনেকটা দন্তহীন বাঘের মতো আচরণ করছে, যাদের জৌলুস থাকলেও কার্যকর ক্ষমতার কোনো প্রকাশ নেই। বিশেষ করে জুলাই (২০২৪) মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের যে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল, সংসদের আলোচনায় তার প্রতিফলন নেই বললেই চলে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থরক্ষায় বিরোধী দল দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারলে তারা চরম জনআস্থার সংকটে পড়বে। তাদের মতে, বিরোধী দলের গায়ে ইতোমধ্যে গৃহপালিত তকমা লেগে গেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কার্যকর আইন প্রণয়ন ও জনস্বার্থে সরকারকে চাপে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় এই হতাশা বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির জন্য ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।



banner close
banner close