নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টার পরিমাপ অনুযায়ী, ডালিয়া স্টেশনে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে প্লাবনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার (এমএসএল)। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় সেখানে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২২ মিটার, যা বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে। উজানের পাহাড়ি ঢল এবং গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল এবং নিচু এলাকার বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে আমন ধানের বীজতলা এবং চরাঞ্চলের পাট ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সুরক্ষা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং প্লাবিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার খোঁজখবর রাখছেন।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে মধ্যরাত পর্যন্ত তিস্তার পানি আরও ৪ থেকে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে মধ্যরাতের পর পানি কমতে শুরু করবে এবং আগামীকাল তা বিপৎসীমার নিচে বা কাছাকাছি অবস্থানে নেমে আসতে পারে।
তিনি আরও জানান, আগামী তিন দিন এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে পানি সাময়িকভাবে কমলেও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
আরও পড়ুন:








