ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ৪৩টি দানবাক্স থেকে রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সাড়ে ১১ ঘণ্টার গণনা শেষে শনিবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ চূড়ান্ত এই হিসাব ঘোষণা করেন। এটি মসজিদটির ইতিহাসে দান সংগ্রহের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
শনিবার সকাল ৭টায় মসজিদের ১৩টি দানবাক্স একে একে খোলা হয়। এরপর টাকাগুলো প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে শুরু হয় গণনার কাজ। নগদ টাকার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণ ও রূপার অলংকারও পাওয়া গেছে।
টাকা গণনার কাজে পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১০৬ জন ও আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন ছাত্র অংশ নেন। এছাড়া রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা, পাগলা মসজিদের ৩৫ জন স্টাফ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ১৯ জন স্টাফ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। পুরো কার্যক্রম তদারকিতে জেলা প্রশাসনের ১৩ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং নিরাপত্তা রক্ষায় ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র্যাব ও ২০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
নগদ অর্থ ও অলংকারের পাশাপাশি প্রতিদিন এই মসজিদে মানত হিসেবে গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি, কবুতর, দুধ ও ডিম জমা হয়। এসব সামগ্রী প্রতিদিন প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ রূপালী ব্যাংকে থাকা পাগলা মসজিদের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়।
কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিম হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি দেশের অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সহিহ নিয়তে এই মসজিদে দান করলে মনের আশা পূরণ হয়—এমন প্রচলিত বিশ্বাস থেকে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে দান করতে আসেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ এই মসজিদের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
আরও পড়ুন:



.jpg)


.jpg)

