শনিবার

২৭ জুন, ২০২৬ ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

কিশোর রাফিজ হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬ ২০:৪০

শেয়ার

কিশোর রাফিজ হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার
ছবি সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে কিশোর রাফিজ মিয়াকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় পলাতক প্রধান আসামি মো. লাল্টু মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের মোছা. আমেনা খাতুনের নাতি রাফিজ মিয়াকে গত ৫ জুন সন্ধ্যায় ফোনে ডেকে নিয়ে অপহরণ করা হয়। ওই দিন রাতেই অপহরণকারীরা রাফিজের পরিবারের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) এবং আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ গত ২৬ জুন ভোরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি এলাকার নলিয়া গ্রাম থেকে মামলার প্রধান আসামি লাল্টু মিয়াকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত লাল্টু চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানান, রাফিজের বাবা প্রবাসী হওয়ায় মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ পাওয়ার আশায় এই অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়। ৫ জুন সন্ধ্যায় রাফিজকে মোটরসাইকেলে করে সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। সেখান থেকেই পরিবারের সদস্যদের কাছে কল দিয়ে নির্যাতনের চিৎকার শুনিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। পরিবার টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই রাতেই আসামিরা রাফিজকে রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মরদেহ খালে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

এর আগে গত ১৩ জুন কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশের একটি পুকুর থেকে রাফিজ মিয়ার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



banner close
banner close