লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় একটি পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে রায়পুর পৌর এলাকায় এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহতরা হলেন সায়মা, ইকরা, শিফা এবং তাঁদের মা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দা এবং ওই পরিবারের প্রাক্তন ভাড়াটিয়া ছিলেন। বড় মেয়ে সায়মাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আক্রোশ থেকে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পানির মিস্ত্রির ছদ্মবেশে ওই ঘরে প্রবেশ করেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে একে একে চারজনকে হত্যা করেন।
ঘটনার সময় ভেতর থেকে ভেসে আসা আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ঘাতক পালানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়রা বাড়ির মূল ফটক আটকে তাকে ধরে ফেলে। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে তার মৃত্যু হয়। রায়পুর থানার ইনচার্জ শাহীন মিয়া জানিয়েছেন, অভিযুক্তের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, ঘাতক ওই পরিবারের পূর্ব পরিচিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ঘরে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিলেন। এদিকে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের অভিযোগ, ঘাতক অন্তর মজুমদার লাভ কুরুক্ষেত্র নামক একটি বিশেষ চক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পরিকল্পিতভাবে এই পরিবারটিকে টার্গেট করা হয়েছিল। মুসলিম নারীদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠন প্রটেক্ট আওয়ার সিস্টার্সের এক সদস্য জানান, উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো অসহায় ও সরল পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে এ ধরনের মিশন পরিচালনা করে থাকে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে একমাত্র জীবিত সন্তান ১৬ বছর বয়সী কিশোর সিফাত বর্তমানে শোকবিহ্বল। ঘটনার সময় তিনি কাজের প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে থাকায় বেঁচে যান। নিহত মা ও তিন মেয়ের মরদেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো উসকানিদাতা বা সহযোগী আছে কি না, তা সঠিকভাবে তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:


.jpg)





