শনিবার

২৭ জুন, ২০২৬ ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১, আটক ২

সাগর মন্ডল, বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬ ১৭:৩৪

শেয়ার

সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১, আটক ২
ছবি সংগৃহীত

সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় এক দস্যু নিহত এবং বাহিনী প্রধানসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার কয়রা উপজেলার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যদের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ জুন বিকেল ৫টা থেকে টানা দুই দিন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা ও স্টেশন নলিয়ান যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে দস্যুদের বহনকারী দুটি নৌকা শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা থামার সংকেত দিলে তারা তা অমান্য করে গুলি ছোড়ে বলে দাবি করা হয়। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধ শুরু হলে দস্যুদের একটি নৌকায় আগুন ধরে যায় এবং অপর নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে এক রাউন্ড ব্ল্যাঙ্ক কার্টিজ ও ২১৬ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।

পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) এবং সদস্য শওকত সরদারকে (৫৫) আটক করা হয়। তাদের কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। রবিউল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে পালিয়ে যাওয়া দস্যুদের গ্রেপ্তারে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকে। এর অংশ হিসেবে মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনের এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) নামে আরেক সদস্যকে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অভিযানে আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকা থেকে ছয়টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, তিন রাউন্ড ফাঁকা কার্টিজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন এবং একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক রবিউল ইসলাম ও নিহত শওকত সরদারের বাড়ি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। অপরদিকে আটক ইসরাফিল হাওলাদারের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায়।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে বাহিনী। পাশাপাশি দস্যুদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।



banner close
banner close