ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশ করার জেরে দায়েরকৃত পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সিরাজগঞ্জের সাংবাদিক রাব্বি হাসান হৃদয়কে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। দৈনিক কালের কণ্ঠের সিরাজগঞ্জ মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি রাব্বি হাসান হৃদয়কে দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত (২৪ জুন) রাতে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থেকে র্যাব-১২ সদস্যরা তাকে আটক করে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করেন। শুক্রবার দুপুরে পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ ও বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, দিনাজপুর জেলার জনৈক সাজ্জাদ হোসেনের স্ত্রী রুমি খাতুনের সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ শহরের সয়াধানগড়া গ্রামের নাজমুল হুদার পরিচয় ও পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে ২০২৫ সালের ১ জুলাই নাজমুল হুদা রুমি খাতুনের বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন এবং সেই চিত্র মোবাইলে ধারণ করেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নাজমুল হুদা দুই লক্ষ টাকা দাবি করেন। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন হোটেল ও স্থানে নিয়ে রুমি খাতুনকে একাধিকবার ধর্ষণ ও ব্লাকমেইল করে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
নিরুপায় হয়ে রুমি খাতুন সিরাজগঞ্জে এসে সাংবাদিক রাব্বি হাসান হৃদয়ের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে মামলা করাসহ আপত্তিকর ছবিগুলো দিয়ে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানান। এর প্রেক্ষিতে রাব্বি হাসান হৃদয় তার অনলাইন পেজে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে গত ৪ সেপ্টেম্বর রুমি খাতুন দিনাজপুর আদালতে নাজমুল হুদাকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। তবে ওই মামলায় তিনি সাংবাদিক রাব্বি হাসান হৃদয়কেও আসামি করেন। বাদীর অভিযোগ, হৃদয় তাকে ছবি দিয়ে ব্লাকমেইল করেছেন এবং তার কাছ থেকে নগদ এক লক্ষ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। যদিও মামলায় হৃদয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণের কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।
এদিকে সাংবাদিক হৃদয়ের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সিরাজগঞ্জে কর্মরত সংবাদকর্মীরা। সাংবাদিক আব্দুস সামাদ সায়েম জানান, ইতিপূর্বে ওই নারী ও তার মা সাহায্যের জন্য তার কার্যালয়েও গিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, কোনো তদন্ত বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই র্যাব-১২ কর্তৃক সাংবাদিককে গ্রেফতারের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় সাংবাদিকরা অবিলম্বে এই মামলা থেকে হৃদয়ের নাম প্রত্যাহার এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে তারা মিথ্যা মামলাকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এই ঘটনায় সিরাজগঞ্জের সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন:








