রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কালেমা খচিত তাওহিদী পতাকা হাতে মিছিল ও শোডাউনের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তার পাশে বিশাল আকৃতির এই পতাকা স্থাপনের ঘটনাও ক্রমশ বাড়ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কালেমা খচিত পতাকা ওড়ানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসাইন জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তারা খোঁজখবর রাখছেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আল কায়েদা, আইএস ও তালেবানের পতাকার আদলে এই পতাকা ওড়ানোর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র বা নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে একই ধরনের কালো পতাকা মিছিলে তদন্তে হিযবুত তাহরীরের সদস্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গিয়েছিল এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, মতিঝিল শাপলা চত্বর, সন্দ্বীপ, পাবনার আলিয়া মাদ্রাসা, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, যশোর, খুলনার মনিহার চত্বর, মাদারীপুর, বাগেরহাট, সিলেটের কানাইঘাট, গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া, জামালপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ একাধিক জেলায় এই পতাকা হাতে মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর থেকে সিংগাইর সড়ক পর্যন্ত এবং শহীদ রফিক সেতুর উপরে কয়েকশো পতাকা স্থাপন করা হয়েছে। সাদা কাপড়ে কালো লেখা এবং কালো কাপড়ে সাদা লেখা-এই দুই ধরনের পতাকা ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের সূচনা হয় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক এবং চট্টগ্রামের আল জামিয়া ইসলামিয়া লালখানবাজার মাদ্রাসার সাবেক সহকারী পরিচালক মুফতি হারুন ইজহারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আহ্বান থেকে। তিনি বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা ওড়ানোর বিপরীতে সারাদেশে কালেমা খচিত তাওহিদী পতাকা উড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
মুফতি হারুন ইজহার জানান, বিদেশি পতাকা ওড়ানো দৃষ্টিকটু বিবেচনায় ইসলামী সংস্কৃতির দৃষ্টিকোণ থেকে কালেমার পতাকা উড়াতে বলা হয়েছিল। তবে এই পতাকা নিয়ে যেভাবে শোডাউন করা হচ্ছে, তা ইসলামসম্মত নয় বলেও তিনি মত দেন। তার মতে, এই পতাকার পেছনে হিযবুত তাহরীর বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ি ফরিদাবাদের জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আমিনুল হক সাদক্বাহ প্রজেক্টের আওতায় ঘোষণা দিয়ে সারাদেশে ১০ হাজার কালেমা খচিত তাওহিদী পতাকা বিতরণ করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি জুলাই বিপ্লবী কাফেলা নামক ফেসবুক পেজের প্রশাসক।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এই মিছিলগুলোতে ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধ ও ইসলামের নবীকে কটূক্তির প্রতিবাদের পাশাপাশি ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবিও তোলা হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে পতাকা মিছিলের সংগঠক ও অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় এবং উদ্দেশ্য যাচাই করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন:








